তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা! যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙে এবার ইরানের (Iran) গভীরে ভয়াবহ বিমান হামলা (Airstrikes) চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী (US Military)। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পালটা জবাব দিতেই এই 'হেভি এয়ারস্ট্রাইক' চালিয়েছে আমেরিকা। রবিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় তেহরান (Tehran), বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas)-সহ একাধিক শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন এই ভয়াবহ হামলা?
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (US CENTCOM) রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি বাণিজ্যিক এবং কার্গো জাহাজের ওপর হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। পাশাপাশি তারা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি বন্ধ করার হুমকি দেয়। এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে অন্তত ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে এই বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
তেহরান থেকে বন্দর আব্বাস: কোথায় কোথায় হামলা?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার এই হামলায় মূলত সামরিক ঘাঁটি, মিসাইল ও ড্রোন লঞ্চার এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে।
- বন্দর আব্বাস ও হোরমুজগান: হরমুজ প্রণালীর একেবারে কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
- তেহরান ও পারমাণবিক কেন্দ্র: রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর (Bushehr) প্রদেশের আশেপাশে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র রয়েছে, সেখানেও মিসাইল আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ।
- সিরাক এবং জাস্ক-এর মতো উপকূলীয় শহরগুলিতেও ড্রোন ও মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান।
ইরানের ভয়াবহ প্রত্যাঘাত: ৫টি উপসাগরীয় দেশে হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ
আমেরিকার ভয়াবহ এয়ারস্ট্রাইকের পর এবার চরম প্রত্যাঘাত হানল ইরান। আল-জাজিরার (Al Jazeera) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পালটা জবাব দিতে ইরান একযোগে অন্তত পাঁচটি উপসাগরীয় দেশের (Gulf Nations) মার্কিন মিত্র ঘাঁটিগুলিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরানের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে খনিজ তেলের সরবরাহে চরম অচলাবস্থা এবং তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
The U.S. has now destroyed Iran's military bases. At least 500 missiles have been locked and loaded. pic.twitter.com/hGdmgwlqLC
— Mossad Commentary (@MOSSADil) July 13, 2026
আমেরিকা-ইরান সংঘাত সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: কেন আমেরিকা ইরানের ওপর এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে?
উত্তর: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পালটা জবাব দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আমেরিকা এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
প্রশ্ন ২: মার্কিন হামলার পর ইরান কী প্রত্যাঘাত করেছে?
উত্তর: মার্কিন হামলার পর ইরান ৫টি উপসাগরীয় দেশে মার্কিন মিত্র ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালী' সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে।