Super El Nino 2026: সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতের বর্ষা ও কৃষি ব্যবস্থায় ঘোরতর সংকটের আশঙ্কা

Super El Nino 2026 impact on India monsoon and agriculture
সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতের বর্ষা ও কৃষি ব্যবস্থা

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের বর্ষা মরশুম শুরু থেকেই এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী 'সুপার এল নিনো' (Super El Niño) ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভারতের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড়সড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুপার এল নিনো কী এবং কেন তা উদ্বেগের?

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রীয় ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক চক্র। ২০২৬ সালে সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় একে 'সুপার এল নিনো' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে, যার ফলে ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৌসুমী বায়ুর শক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

কৃষি ও খারিফ ফসলে ভয়াবহ প্রভাব

ভারতের মোট কৃষিজমির প্রায় অর্ধেকই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত সরাসরি খারিফ ফসলের বপন ও উৎপাদনের ওপর আঘাত হানছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:

  • বপন কার্যে ধীরগতি: ধান, ডাল, তৈলবীজ এবং তুলার মতো প্রধান খারিফ ফসলের বপন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
  • বৃষ্টির ঘাটতি: ভারতের ৭৪১টি জেলার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক ঝুঁকি: কৃষি ভারতের জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের বড় উৎস। খারিফ ফলন কম হলে গ্রামাঞ্চলে চাহিদা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (Food Inflation) ঝুঁকি বাড়ছে।

মৌসুমী বায়ুর অস্থিরতা ও পূর্বাভাস

ভারতের মৌসম ভবন (IMD) ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা ‘বিলো নরমাল’ (Below Normal) হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। জুলাই মাসের শুরুতে বৃষ্টির কিছুটা উন্নতি হলেও, আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে এই উন্নতি সাময়িক হতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে তাপপ্রবাহ, খরা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপার এল নিনো ও ভারতের কৃষি (FAQ)

প্রশ্ন ১: 'সুপার এল নিনো' কী?

উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রীয় ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেলে তাকে 'সুপার এল নিনো' বলা হয়।

প্রশ্ন ২: ভারতের কৃষিতে এর প্রভাব কী?

উত্তর: এর ফলে মৌসুমি বায়ুর শক্তি হ্রাস পায়, বৃষ্টিপাত কমে যায়, খারিফ ফসলের বপনে ধীরগতি আসে এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in