ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের এক বিরাট পালাবদলের ইঙ্গিত। প্রাণসংশয় এবং গুপ্তহত্যার চরম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের বাইরে অবস্থান করলেও, তাঁর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ডিসেম্বরেই কি দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণবিক্ষোভের জেরে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর থেকেই দেশের বাইরে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে তিনি আর বেশিদিন প্রবাসে থাকতে ইচ্ছুক নন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসেই তিনি রাজধানী ঢাকায় পা রাখতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের বিপর্যস্ত নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতেই তিনি এই মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
প্রাণসংশয় ও গুপ্তহত্যার চরম সতর্কতা
তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাবর্তন মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে ফিরলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বেন এবং তাঁকে হত্যা করা হতে পারে ('might get killed')। বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোল এবং বিরোধীদের তীব্র আক্রোশের সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা মহলেও এমন গুপ্তহত্যার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এত বড় ঝুঁকি জেনেও তাঁর দেশে ফেরার এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুঃসাহসিক বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়
শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকার বা প্রশাসন তাঁর এই ফেরাকে কীভাবে মোকাবিলা করবে এবং তাঁর জন্য আদৌ কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। ডিসেম্বরে যদি সত্যিই তিনি ঢাকায় ফেরেন, তবে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও সংকটপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।