নয়াদিল্লি: বাড়িতে পোষ্য হিসেবে বিড়াল রাখতে অনেকেই খুব ভালোবাসেন। নরম লোমশ এই প্রাণীটি নিমেষেই মানুষের মন ভালো করে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি একটি গবেষণায় বিড়াল পোষা নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং কিছুটা উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের দাবি, বিড়ালের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia)-র মতো গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিড়াল পোষার সঙ্গে সিজোফ্রেনিয়ার সম্পর্ক
সম্প্রতি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য বিষয়ক একাধিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ছোটবেলা থেকে যারা বিড়ালের কাছাকাছি বেশি সময় কাটায়, তাদের পরবর্তী জীবনে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি। অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক গত কয়েক দশকের একাধিক পুরনো গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
টক্সোপ্লাজমা গন্ডি: মূল ভিলেন এই পরজীবী
বিজ্ঞানীদের মতে, বিড়াল থেকে এই রোগ সরাসরি ছড়ায় না। এর মূল কারণ হলো বিড়ালের শরীরে থাকা এক বিশেষ ধরনের পরজীবী, যার নাম 'টক্সোপ্লাজমা গন্ডি' (Toxoplasma gondii)। এই পরজীবীটি মূলত সংক্রামিত বিড়ালের মলের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়ায়। মানুষ যখন বিড়ালকে আদর করে, তার মল পরিষ্কার করে বা সংক্রামিত বিড়ালের সংস্পর্শে আসে, তখন অসাবধানতাবশত এই পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মানুষের শরীরে প্রবেশ করার পর এটি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত হানে। দীর্ঘদিন এই পরজীবী মস্তিষ্কে বাসা বেঁধে থাকলে তা মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনে এবং সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক রোগের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ঝুঁকি এড়াতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?
গবেষকরা সতর্ক করলেও বিড়াল প্রেমীদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু সাধারণ পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব:
- বিড়ালের লিটার বক্স (Litter Box) বা মলত্যাগের জায়গা পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহার করুন।
- পরিষ্কার করার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
- বাড়ির পোষা বিড়ালকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিন।
- কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ মাংস বিড়ালকে খেতে দেবেন না, কারণ সেখান থেকেও বিড়ালের শরীরে পরজীবী প্রবেশ করতে পারে।
- অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের বিড়ালের মল পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।