ইতিহাস গড়লেন পিভি সিন্ধু, ভারতের প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসাবে জাপান ওপেন চ্যাম্পিয়ন

পিভি সিন্ধুর রেকর্ড
Graphics: SE


ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে ফের একবার সোনালী অধ্যায় লিখলেন দুই বারের অলিম্পিক পদকজয়ী শাটলার পিভি সিন্ধু। টোকিওর মেট্রোপলিটন জিমনেসিয়ামে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ জাপান ওপেন (Japan Open 2026) টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক দেশের ফেভারিট তথা তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আকানে ইয়ামাগুচিকে সরাসরি গেমে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এই অবিস্মরণীয় জয়ের সাথে সাথেই প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে জাপান ওপেনের শিরোপা নিজের নামে করলেন ৩১ বছর বয়সী এই ভারতীয় তারকা।



দুই বছরের খরা কাটিয়ে মেগা জয়

রবিবার নারীদের সিঙ্গলস ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই চেনা আগ্রাসী মেজাজে দেখা যায় সিন্ধুকে। ফাইনালে তিনি ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ গেমে পরাস্ত করেন। এই জয়টি সিন্ধুর ক্যারিয়ারের প্রথম বিডব্লিউএফ (BWF) সুপার ৭৫০ খেতাব। একই সাথে এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর শিরোপার খরা কাটল। ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর, বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই সিন্ধুর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ ট্রফি জয়।



হাড্ডাহাড্ডি লড়াই 

ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জমে ওঠে। প্রথম গেমে ইয়ামাগুচি এক সময় ১১-৯ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেলেও, কোর্টে ফিরে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন সিন্ধু। একটি দীর্ঘ ৩৬ শটের রুদ্ধশ্বাস র‍্যালি জিতে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান। নিজের উচ্চতার সুবিধা এবং নিখুঁত নেট প্লে-র ওপর ভর করে তিনি ইয়ামাগুচিকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন এবং ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেমটি পকেটে পুরে নেন।



আগ্রাসনের মুখে টিকতে পারলেন না ইয়ামাগুচি

দ্বিতীয় গেমেও প্রথম গেমের ছন্দ ধরে রাখেন ভারতীয় তারকা। একটি চোখ ধাঁধানো ৪৪ শটের র‍্যালি জিতে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়ে নেন এবং এক সময় ১৪-৭ ব্যবধানে এগিয়ে যান। ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রবল সমর্থনের ভরসায় ইয়ামাগুচি ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে ব্যবধান ১৯-১৭ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে সিন্ধু পরপর দুটি দুর্দান্ত ক্রস-কোর্ট ও বডি স্ম্যাশে ম্যাচ পয়েন্ট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত জাপানি তারকার একটি রিটার্ন লাইনের বাইরে পড়তেই গেম ও ম্যাচ জিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন সিন্ধু।



চার বছরের আক্ষেপ মেটালেন সিন্ধু

পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই জয়টি সিন্ধুর জন্য অত্যন্ত স্পেশাল ছিল। কারণ, বিগত চার বছর ধরে কোনো সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইয়ামাগুচিকে হারাতে পারেননি তিনি (চলতি বছরের শুরুতে মালয়েশিয়া ওপেনে ইয়ামাগুচি রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় সিন্ধু জিতেছিলেন, তবে পুরো ম্যাচ খেলে শেষ জয় এসেছিল ২০২২ সালের থাইল্যান্ড ওপেনে)। ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিন্ধু প্রমাণ করে দিলেন যে, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এখনও বিশ্বমঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in