সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষকদের বেআইনি প্রাইভেট টিউশন: কড়া ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব পিটিডব্লিউএ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট (আরটিই) বা শিক্ষার অধিকার আইনের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরুলিয়া জেলাজুড়ে সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষকদের একাংশের বেআইনি প্রাইভেট টিউশন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ। এই বেআইনি কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এবার পুরুলিয়া জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই - এসই) দ্বারস্থ হল 'প্রাইভেট টিউটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (পিটিডব্লিউএ)। সংগঠনের পুরুলিয়া ইউনিটের পক্ষ থেকে ডিআই-এর কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে।
আইন স্মরণ করিয়ে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ
সংগঠনের তরফ থেকে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনের ২৮ নম্বর ধারার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা যেকোনো ধরনের বেসরকারি শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) কড়া বার্তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মানবাধিকার কমিশনের নোটিশের ভিত্তিতে গত ৪ জুন (২০২৬) স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডিরেক্টরেট থেকে সমস্ত জেলার ডিআইদের শিক্ষকদের টিউশন পড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আইন ও নির্দেশিকা থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ
তবে পিটিডব্লিউএ-র অভিযোগ, এত আইন ও নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও পুরুলিয়ায় এই নিয়মগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংগঠনের দাবি, সমস্যা আইনের অভাবে নয়, বরং মূল সমস্যা হলো প্রশাসনের তরফ থেকে সেটির সঠিক প্রয়োগের অভাব। অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাইভেট টিউশনের অভিযোগ জমা পড়লে তদন্তের নামে অনেক ক্ষেত্রেই প্রহসন চলছে। কোনো অভিযোগ এলে, যথাযথ তদন্ত না করে শুধুমাত্র অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে একটি 'ডিক্লারেশন' বা ঘোষণাপত্র লিখিয়ে নিয়েই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনের মতে, এটি কোনোভাবেই একটি কার্যকরী তদন্তের পদ্ধতি হতে পারে না।
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি প্রাইভেট টিউটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের
এই পরিস্থিতিতে 'প্রাইভেট টিউটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন'-এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, শুধুমাত্র ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে যেন কোনো অভিযোগ খারিজ না করা হয়। বরং, যেসব জায়গায় বেআইনি টিউশন সেন্টার চলার অভিযোগ উঠছে, আধিকারিকদের সেখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে (ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন) তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি নথিপত্র যাচাই, স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমেই সরকারি শিক্ষকদের এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে তারা জানিয়েছে।
কারোর পেশার বিরুদ্ধে নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য: সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়
ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন PTWA-এর রাজ্য কমিটির সহ-সম্পাদক সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা পেশার বিরুদ্ধে নয়; এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা এবং বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহকারী লক্ষ লক্ষ গৃহশিক্ষকের ন্যায্য অধিকার রক্ষার আন্দোলন। আদালতের নির্দেশ ও সরকারি বিধির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।"
ডেপুটেশন গ্রহণের পর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন