ইসলামাবাদ: চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানে এবার আটার তীব্র আকাল দেখা দিতে চলেছে। পাকিস্তানের আটা কল বা ফ্লাওয়ার মিল শিল্প এবং পাঞ্জাব খাদ্য দপ্তরের (Punjab Food Department) মধ্যে চলমান বিবাদের জেরে রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদে আটার ব্যাপক ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাঞ্জাব সরকার হঠাৎ করেই রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের সমস্ত আটা কলের গম কেনার পারমিট বা অনুমতিপত্র বাতিল করে দেওয়ায় এই সংকটের সূত্রপাত।
কেন এই সংকট?
রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঞ্জাবের যে সমস্ত জেলায় গমের উদ্বৃত্ত উৎপাদন হয়, সেখান থেকে গম কেনার জন্য আটা কলগুলিকে পারমিট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঞ্জাব খাদ্য দপ্তর আচমকাই সেই পারমিট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যেহেতু রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদে স্থানীয়ভাবে গমের উৎপাদন প্রায় নেই বললেই চলে, তাই বাইরের জেলা থেকে গম আমদানির ওপরই তাদের নির্ভর করতে হয়। পারমিট বাতিল হওয়ার অর্থ হলো, এই অঞ্চলে গমের বৈধ পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আটা উৎপাদনের ওপর।
মিল মালিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে 'পাকিস্তান ফ্লাওয়ার মিলস অ্যাসোসিয়েশন' (PFMA)। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঞ্জাব সরকারকে ২৪ ঘণ্টার চরমসীমা (Ultimatum) দেওয়া হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অবিলম্বে এই পারমিটগুলি পুনর্বহাল করা না হলে রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদে আটা সরবরাহকারী সমস্ত মিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দেবে। পিএফএমএ-এর অভিযোগ, খাদ্য দপ্তর বিনা কারণে গম পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করছে, যার ফলে আটার বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
পেশোয়ার ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রভাব
পাঞ্জাব সরকারের এই অঘোষিত বিধিনিষেধের প্রভাব গিয়ে পড়েছে প্রতিবেশী প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া (KPK) এবং পেশোয়ারেও। পাঞ্জাব থেকে ওই অঞ্চলে গমের সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেখানে আটার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ২০ কেজির আটার বস্তার দাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। পেশোয়ারের আটা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্রাকে করে গম নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হচ্ছে এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে বাণিজ্যে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের দুরবস্থা
একদিকে পারমিট বাতিল নিয়ে সরকার ও মিল মালিকদের দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে রুটি ও বেকারি শিল্পও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে সরকার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে দেশজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানে আটার সংকট (FAQ)
প্রশ্ন ১: পাকিস্তানে আটার সংকট কেন দেখা দিয়েছে?
উত্তর: পাঞ্জাব সরকার হঠাৎ করে রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের সমস্ত আটা কলের গম কেনার পারমিট বাতিল করে দেওয়ায় গমের পরিবহন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলেই আটার সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন ২: মিল মালিকরা কী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন?
উত্তর: 'পাকিস্তান ফ্লাওয়ার মিলস অ্যাসোসিয়েশন' (PFMA) পাঞ্জাব সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। পারমিট পুনর্বহাল না হলে তারা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।