One Nation One Election: 'এক দেশ এক নির্বাচন' নিয়ে বড় ইঙ্গিত সংসদীয় কমিটির প্রধানের

One Nation One Election likely to be operational by 2029 says parliamentary committee chief
ছবি: 'এক দেশ এক নির্বাচন' কার্যকর হওয়া নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন সংসদীয় কমিটির প্রধান

নয়াদিল্লি: গোটা দেশে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচন একসঙ্গে করানোর লক্ষ্যে মোদী সরকারের মেগা প্রজেক্ট 'এক দেশ এক নির্বাচন' (One Nation One Election)। এবার এই প্রস্তাবিত বিল নিয়ে বড়সড় আপডেট দিলেন সংসদীয় যৌথ কমিটির (Joint Committee of Parliament) চেয়ারপারসন পি.পি. চৌধুরী (P.P. Chaudhary)। শুক্রবার গোয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই দেশে 'এক দেশ এক নির্বাচন' ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

'এক দেশ এক নির্বাচন' নিয়ে কী জানাল সংসদীয় কমিটি?

সংসদীয় কমিটির প্রধান পি.পি. চৌধুরী গোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে নাগরিক সমাজ (Civil Society) এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলেছে তাঁদের কমিটি। প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই এই 'এক দেশ এক নির্বাচন' বা যুগপৎ নির্বাচনের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এই কমিটি গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে গিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছে। বর্তমানে ১২৯তম সংবিধান সংশোধন বিল, ২০২৪-এর ওপর আলোচনা চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ঐক্যমত গড়ার চেষ্টা চলছে। কিছু রাজ্য চাইলে ২০২৯ সালের আগেই স্বেচ্ছায় তাদের নির্বাচনী চক্রকে এই ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

রামনাথ কোবিন্দ কমিটির রিপোর্টে কী ছিল?

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Ram Nath Kovind) নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগেই 'এক দেশ এক নির্বাচন'-এর পক্ষে সওয়াল করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছিল। পি.পি. চৌধুরী সেই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, বারবার নির্বাচন করার ফলে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। কোবিন্দ প্যানেলে জমা দেওয়া একটি অর্থনৈতিক মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, সারা দেশে আলাদা আলাদা সময়ে নির্বাচন হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। ২০২৯ সাল থেকে একসঙ্গে নির্বাচন হলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

বারবার নির্বাচনে কী ক্ষতি হয়?

পি.পি. চৌধুরী আরও জানান, আজকের বিশ্বায়িত যুগে দেশের অর্থনীতি একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।

  • অর্থনৈতিক প্রভাব: একটি রাজ্যে নির্বাচন হলে তার প্রভাব অন্য রাজ্যের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পেও পড়ে।
  • শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব: বারবার নির্বাচনের কারণে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভোটার তালিকা তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং পোলিং ডিউটিতে নিযুক্ত করা হয়। ফলে সরকারি স্কুলগুলির পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার ফলে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পড়ুয়ারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • উন্নয়ন থমকে যাওয়া: যখনই নির্বাচন ঘোষণা করা হয়, আদর্শ আচরণবিধি (MCC) জারি হওয়ার ফলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য থমকে যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার যে স্বপ্ন রয়েছে, যুগপৎ নির্বাচন সেই লক্ষ্য পূরণে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক দেশ এক নির্বাচন (FAQ)

প্রশ্ন ১: 'এক দেশ এক নির্বাচন' ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?

উত্তর: সংসদীয় কমিটির প্রধান পি.পি. চৌধুরীর ইঙ্গিত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই দেশে 'এক দেশ এক নির্বাচন' ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২: বারবার নির্বাচন হলে দেশের কী ক্ষতি হয়?

উত্তর: বারবার নির্বাচন হলে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এছাড়া সরকারি স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হয় এবং আদর্শ আচরণবিধির (MCC) কারণে উন্নয়নমূলক কাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য থমকে যায়।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in