আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সংবাদ একলব্য: নিউ ইয়র্ক শহরের আকাশচুম্বী ও ঐতিহাসিক বহুতল ‘এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং’। গত বুধবার দুপুরে সেই বহুতলের একেবারে নিষিদ্ধ চূড়ায় (ট্রান্সমিশন টাওয়ার) উঠে রুদ্ধশ্বাস কাণ্ড ঘটালেন এক রুশ যুগল। কোনওরকম সুরক্ষাকবচ ছাড়াই ১,৪৫৪ ফুট উঁচুতে উঠে প্রথমে বিশ্ব শান্তির বার্তা দিয়ে ব্যানার ওড়ালেন তাঁরা, আর তারপরেই চলল প্রেমপ্রস্তাব ও আংটি বদল! তবে এই রোমহর্ষক ও বিপজ্জনক স্টান্টের শেষটা অবশ্য মধুর হয়নি; নিচে নামতেই পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
কারা এই যুগল?
ধৃত ওই যুগলের নাম অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ভানিয়া বীরকুস। তাঁরা দুজনেই রাশিয়ার বাসিন্দা এবং পেশাদার ‘আরবান ক্লাইম্বার’ বা ছাদ-আরোহী। বিশ্বের বিভিন্ন উঁচু বহুতলের চূড়ায় উঠে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০২৪ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘স্কাইওয়াকার্স: আ লাভ স্টোরি’ (Skywalkers: A Love Story) নামক তথ্যচিত্রেও এই যুগলকে ফিচার করা হয়েছিল। এর আগে সান ফ্রান্সিসকোর বে ব্রিজ এবং কুয়ালালামপুরের বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন 'মেরদেকা ১১৮'-এর চূড়াতেও উঠেছিলেন তাঁরা।
ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার?
বুধবার ঠিক দুপুর ১২টা নাগাদ যখন সাধারণ পর্যটকরা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের পর্যবেক্ষণ ডেকে (অবজারভেশন ডেক) ঘুরছিলেন, তখনই কালো পোশাক ও মুখে মাস্ক পরা এই যুগলকে বহুতলটির একেবারে মাথায় থাকা সরু রেডিও ও টেলিভিশন ট্রান্সমিশন অ্যান্টেনায় উঠতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য ওই অংশটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
শত শত ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে লাল সংকেত বাতির ঠিক পাশে তাঁরা একটি বড় কালো ব্যানার মেলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোনের একটি বিখ্যাত উক্তি "যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসাকে হারিয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হবে, তখন বিশ্ব শান্তি পাবে।"
ব্যানার ওড়ানোর পর তাঁরা অ্যান্টেনায় বসেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ছবি ও ভিডিও লাইভ পোস্ট করতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁরা অ্যান্টেনায় ঝুলন্ত একটি ছোট প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন। সেখানেই ভানিয়া হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মাস্ক খুলে অ্যাঞ্জেলা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করার পর দুজনে আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
এই বিপজ্জনক দৃশ্য নজরে আসতেই নিচে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তড়িঘড়ি পর্যটকদের পর্যবেক্ষণ ডেক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ (NYPD)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশে ওড়ে পুলিশের হেলিকপ্টার। যুগল নিচে নেমে আসতেই পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়। বহুতল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই আরোহন সম্পূর্ণ ‘অননুমোদিত’ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
সিবিএস নিউজের প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার জন ক্লিয়ারি জানিয়েছেন, এই স্টান্ট অত্যন্ত আত্মঘাতী ছিল। কারণ ওই টাওয়ারটি লাইভ টেলিভিশন এবং রেডিও তরঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক শক্তিতে সচল থাকে। কোনওরকম সুরক্ষাকবচ ছাড়া সেখানে সামান্য ভুল হলেই অবধারিত মৃত্যু ছিল। তবে মেয়ের এমন কাণ্ডে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন অ্যাঞ্জেলার বাবা ও রাশিয়ার সার্কাস শিল্পী দিমিত্রি নিকোলাউ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, "যেকোনও দেশের সংবিধান অনুযায়ী ছাদে ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আমিও তো নিজে ছাদে উঠি, তাই মেয়ের জন্য চিন্তার কিছু নেই।"
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ভাইরাল স্টান্ট (FAQ)
প্রশ্ন ১: এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে স্টান্ট করা রুশ যুগলের নাম কী?
উত্তর: এই রোমহর্ষক স্টান্ট করা যুগলের নাম অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ভানিয়া বীরকুস। তাঁরা দুজনেই রাশিয়ার বাসিন্দা এবং পেশাদার ছাদ-আরোহী (Urban Climber)।
প্রশ্ন ২: তাঁরা কত ফুট উঁচুতে উঠেছিলেন?
উত্তর: তাঁরা কোনওরকম সুরক্ষাকবচ ছাড়াই নিউ ইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১,৪৫৪ ফুট উঁচুতে থাকা নিষিদ্ধ ট্রান্সমিশন টাওয়ারে উঠেছিলেন।
প্রশ্ন ৩: যুগলকে কি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই আরোহন সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক হওয়ায় নিচে নামতেই নিউ ইয়র্ক পুলিশ (NYPD) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।