কোচবিহার: নিশিগঞ্জে সেন্সাস বা জনগণনার প্রশিক্ষণ শিবিরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হল। খাবার বা টিফিন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা শিক্ষক ও কর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ট্রেনিং বয়কট করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন উপস্থিত সকলে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও মিলল না খাবার
নিশিগঞ্জের নেতাজী সুভাষ সদনে এই সেন্সাস ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সকাল সাড়ে ন'টা থেকে ট্রেনিং শুরু হলেও বিকেল তিনটে বেজে যাওয়ার পরেও তাঁদের অনেকেই কোনো খাবার বা টিফিন পাননি। হাতে খাবারের স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হলেও টিফিন শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজ্যে সরকারের পালাবদল হলেও 'কাটমানি' নেওয়া বা 'চুরি'র মতো দুর্নীতি এখনও বন্ধ হয়নি। প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষ খাবার পাননি এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেকেই বাধ্য হয়ে ফিরে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। মহিলা শিক্ষিকারাও সারাদিন না খেয়ে ওই ভবনের ভেতরে বসে থাকতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ ওঠে।
আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ ও ট্রেনিং বয়কট
খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। "খাবার কেন শর্ট পড়বে?" এবং "আপনারা কী দায়িত্বে আছেন?"—এমন একাধিক প্রশ্নে আধিকারিকদের জর্জরিত করা হয়। যদিও আধিকারিকদের তরফ থেকে এই বিশৃঙ্খলার কোনো সদুত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষকরা ট্রেনিং বন্ধ করে দেন এবং নেতাজী সুভাষ সদনের ভেতরে ও বাইরে প্রবল হট্টগোল চলতে থাকে।
জানা গিয়েছে প্রায় ১৬৮ জনের উপরে টোকোন পেলেও খাবার পাননি। অভুক্ত অবস্থায় টোকোন নিয়েই চলে আসেন। আগামীকাল ফের এই বিষয়ে জবাব চাইবেন বলে জানা গেছে।
নিশিগঞ্জে সেন্সাস ট্রেনিংয়ে বিক্ষোভ (FAQ)
প্রশ্ন ১: নিশিগঞ্জে সেন্সাস ট্রেনিংয়ে কেন বিক্ষোভ শুরু হয়?
উত্তর: নিশিগঞ্জের নেতাজী সুভাষ সদনে সেন্সাস ট্রেনিংয়ে এসে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বহু শিক্ষক খাবার বা টিফিন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
প্রশ্ন ২: কতজন শিক্ষক খাবারের টোকেন পেয়েও খাবার পাননি?
উত্তর: জানা গিয়েছে, প্রায় ১৬৮ জনের বেশি শিক্ষক খাবারের টোকেন হাতে পাওয়ার পরেও খাবার পাননি এবং অভুক্ত অবস্থায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।