কোঝিকোড়: বৃহস্পতিবার সকালে কেরালা রাজ্যের কোঝিকোড় (Kozhikode) রেলওয়ে স্টেশনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ১৩৭ বছরের পুরনো একটি 'ক্লক টাওয়ার' বা ঘড়িঘর। প্ল্যাটফর্ম নম্বর ২ এবং ৩-এর মাঝে অবস্থিত এই ভবনের একাংশ ভেঙে পড়লেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর নেই।
বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা: বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১:১০ নাগাদ কোঝিকোড় স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ধস নামার ঘটনাটি ঘটে। ভবনের ধ্বংসস্তূপ এবং টিনের চাল সরাসরি ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম, ওভারহেড বিদ্যুতের তার এবং ৩ নম্বর ট্র্যাকে আছড়ে পড়ে। ওই ট্র্যাকে কোঝিকোড়-কান্নুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলেও সেই মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মে কোনো যাত্রী না থাকায় একটি বিশাল বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওভারহেড তারের ওপর ধ্বংসস্তূপ পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ১, ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং ওই প্ল্যাটফর্মগুলোতে যাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। স্টেশনের শুধুমাত্র ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি চালু রাখা হয়।
রেল পরিষেবা ব্যাহত: এই ঘটনার কারণে ম্যাঙ্গালুরু-তিরুবনন্তপুরম এরানাদ এক্সপ্রেস এবং নেত্রাবতী এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার ট্রেনগুলি বেশ কিছুক্ষণ দেরিতে চলাচল করে। জন শতাব্দী এক্সপ্রেসকে কাল্লাই (Kallai) স্টেশন থেকে এবং বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসকে ওয়েস্ট হিল স্টেশন থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।
পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ: দক্ষিণ রেলওয়ে (Southern Railway) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয় বরং স্টেশন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পেরই একটি অংশ। বর্তমানে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। পুরনো এই ভবনটিতে আগেই ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং দুর্বল হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে ফেলার (Dismantling) জন্যই চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে, ভাঙার কাজ শুরু করার জন্য ব্যারিকেড তৈরির আগেই সেটি হঠাৎ ধসে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে কোঝিকোড়ে চলা টানা ভারী বৃষ্টিপাতও এই পুরনো কাঠামোটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সিপিআই(এম) বিধায়ক পি. এ. মোহাম্মদ রিয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের "দায়িত্বজ্ঞানহীন" আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, ভবনটির বিপদের কথা জানা সত্ত্বেও কেন আগে থেকে কড়া সতর্কতা জারি করা বা উপযুক্ত ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি রাজ্যের সমস্ত পুরনো রেলওয়ে স্টেশন ভবনগুলির দ্রুত 'সেফটি অডিট' (Safety Audit) করার দাবি জানিয়েছেন।