জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দেশবন্ধু নগর আর আর ২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনের বেলা পঠনপাঠন চললেও, স্কুল ছুটি হতেই তা পরিণত হচ্ছে দুষ্কৃতীদের নেশার ঠেকে! প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই বিদ্যালয়ের বাগান থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের আশেপাশে রীতিমতো মদের আসর বসাচ্ছে বহিরাগতরা। যার জেরে পরের দিন সকালে স্কুল খোলার পর সেই উচ্ছিষ্ট বোতল ও নেশার সামগ্রী বাধ্য হয়ে পরিষ্কার করতে হচ্ছে খোদ প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গীতা রায় সান্যালকে।
জলপাইগুড়ি দেশবন্ধু নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোচনীয় অবস্থা
দিনের পর দিন এই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই বাধ্য হয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কচিকাঁচারা। রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি পবিত্র স্থানে এহেন অসামাজিক কাজ চলায় অভিভাবকরাও যথেষ্ট চিন্তিত। বিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের এই অবাধ প্রবেশের ফলে স্কুলের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: জলপাইগুড়ির অন্যান্য চাঞ্চল্যকর খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন
পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। কোনো সুরাহা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মনে। যদিও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন এবং খুব দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সমাধান হবে।
"আমি প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছি। স্কুলে যারা এই অসামাজিক কাজের সাথে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।" — সন্দীপ ঘোষ, কাউন্সিলর, ১৪ নং ওয়ার্ড।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. জলপাইগুড়ির কোন স্কুলে মদের আসর বসার অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: জলপাইগুড়ি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগর আর আর ২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতে বহিরাগতদের মদের আসর বসার অভিযোগ উঠেছে।
২. স্কুল চত্বরে পড়ে থাকা মদের বোতল কে পরিষ্কার করেন?
উত্তর: প্রতিদিন সকালে স্কুল খোলার পর বাধ্য হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গীতা রায় সান্যাল নিজে সেই মদের বোতল ও উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করেন।