জলপাইগুড়ি: ডিমের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে নাজেহাল অবস্থা জলপাইগুড়ি আরবান (সদর) আইসিডিএস (ICDS) প্রকল্পের অধীনস্থ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের। এই পরিস্থিতিতে, ডিমের বাজারমূল্য সরকারের দেওয়া বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে একদিন ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবিতে জেলা প্রকল্প আধিকারিক (ডিপিও)-এর কাছে লিখিত আবেদন জানালেন তাঁরা।
কেন ডিম সরবরাহ বন্ধের দাবি?
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে খোলা বাজারে একটি ডিমের দাম প্রায় ৮ টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিকে প্রতিটি ডিমের জন্য মাত্র ৬ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর ফলে, প্রতিদিন প্রতিটি ডিমের পেছনে কেন্দ্রগুলিকে ১ টাকা ৫০ পয়সা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা কর্মীদের কাছে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুষ্টি প্রকল্পের ওপর প্রভাব
আইসিডিএস কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, ৭ জুলাই থেকে আরবান আইসিডিএস প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে ডিম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁদের মতে, ডিম বন্ধ থাকার এই প্রভাব সরাসরি গর্ভবতী মহিলা, প্রসূতি মা এবং ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টির উপর পড়তে পারে। তাই সপ্তাহে একদিন ডিম বিতরণ বন্ধ রেখে, বাকি দিনগুলিতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে ডিপিও দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, "আপাতত যেভাবে নিয়ম আছে সেভাবেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ডিম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।" জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
আইসিডিএস ডিম সংকট সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: আইসিডিএস কর্মীরা কেন ডিম সরবরাহ বন্ধের আবেদন করেছেন?
উত্তর: ডিমের বাজারমূল্য (প্রায় ৮ টাকা) সরকারি বরাদ্দের (৬.৫০ টাকা) চেয়ে বেশি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির কারণে কর্মীরা এই আবেদন জানিয়েছেন।
প্রশ্ন ২: বর্তমানে সরকারি নিয়ম কী?
উত্তর: মায়েদের প্রতিদিন একটি এবং বাচ্চাদের জন্য একদিন অন্তর একটি করে গোটা ডিম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।