সুরশ্রী ব্যানার্জী, হাওড়া: কখনও নিজেকে মন্ত্রী, কখনও সরকারি আমলা, আবার কখনও রাজ্যপাল হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের ফোন করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করল হাওড়ার বালি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বালি থানার রামনবমীতলা এলাকা থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়। ধৃতের নাম অভিজিৎ মণ্ডল (২৬)। যদিও পুলিশের তদন্ত এবং অভিযুক্তের পরিবারের বয়ান থেকে উঠে এসেছে এক করুণ কাহিনি, যা এই ঘটনাটিকে আর পাঁচটা সাধারণ অপরাধের থেকে আলাদা করেছে।
কী অভিযোগ অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দীর্ঘদিন ধরেই নিজের আসল পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের ফোন করতেন। তিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গের নেতাদেরই নয়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদেরও ফোন করেছেন বলে অভিযোগ।
বালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে অভিজিৎ নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি সম্প্রতি এক মন্ত্রীকে ফোন করে নিজেকে 'গভর্নর' (রাজ্যপাল) হিসেবে পরিচয় দেন এবং অন্য এক ব্যক্তির চাকরির জন্য সুপারিশ করেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এর পেছনে তার কোনো অসাধু বা আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল না।
বালি থানার আইসির মানবিক উদ্যোগ
এই ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো বালি থানার আইসি (IC) গৌরীপ্রসন্ন বন্ধুর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি ঘটনাটিকে নিছক অপরাধ হিসেবে না দেখে এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত অভিজিতের বাবা অজিত মণ্ডলকে থানায় ডেকে কথা বলেন তিনি এবং তাঁকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
'আমার ছেলে স্নায়ু রোগে ভুগছে'
থানায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিজিতের বাবা অজিত মণ্ডল। তিনি জানান, তার ছেলে কোনো অপরাধী নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুরোগে (Neurological Disorder) ভুগছে। স্থানীয় এক চিকিৎসকের অধীনে তার মানসিক রোগের চিকিৎসাও চলছে।
অজিতবাবু বলেন, "আমার ছেলে মানসিক রোগের ওষুধ ঠিকমতো খেতে চায় না। ওষুধ দিলে রেগে যায়, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙে। ওকে ভাতের সাথে লুকিয়ে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াতে হয়।" তিনি আরও জানান, ছেলের এই আচরণের কারণে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং ঠিকমতো নিজের কাজেও যেতে পারেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।