'অদৃশ্য ঘাতক' ওজোন দূষণ! দিল্লি-এনসিআর এখন দেশের শীর্ষ হটস্পট, সতর্ক করল সিএসই-এর রিপোর্ট
নয়াদিল্লি: বায়ুদূষণের চিরচেনা চিত্রকে ছাপিয়ে এবার নতুন বিপদের সংকেত দিল সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট। ভারতের ২৫টি প্রধান শহরের ওপর ছয় বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে 'গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন' দূষণ এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলকে দেশের 'আল্টিমেট হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেন এই ওজোন দূষণ বিপজ্জনক?
ওজোন গ্যাস সাধারণ দূষণকারীর মতো সরাসরি বাতাসে নির্গত হয় না। এটি একটি 'সেকেন্ডারি পলিউট্যান্ট' বা গৌণ দূষণকারী। যানবাহন থেকে নির্গত গ্যাস, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবর্জনা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (VOCs) গ্রীষ্মের তীব্র সূর্যের আলো ও গরমের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নিম্নস্তরে এই ওজোন গ্যাস তৈরি করে।
গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ:
- সার্বক্ষণিক বিপদ: সিএসই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে গবেষণার ৭১ দিনই ওজোন স্তর নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল। শুধু তাই নয়, এখন এটি আর কেবল দিনের বেলার সমস্যা নয়, সূর্যাস্তের পরেও ওজোনের মাত্রা বিপদসীমার উপরেই থাকছে।
- বিস্তৃতি: দিল্লি ছাড়াও চণ্ডীগড়, জয়পুর, আমদাবাদ, ভোপাল, মুম্বই, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোও এই দূষণের কবলে পড়েছে।
- দীর্ঘক্ষণ এক্সপোজার: ভোপালে দিনে গড়ে ১৭ ঘণ্টা, লখনউতে ১৬.৩ ঘণ্টা এবং মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে প্রায় ১৫.৯ ঘণ্টা ওজোন গ্যাসের সংস্পর্শে থাকতে হচ্ছে শহরবাসীদের।
স্বাস্থ্য ও কৃষির ওপর প্রভাব
এই দূষণ সরাসরি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির প্রকোপ বৃদ্ধি এবং ফুসফুসের প্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এক্সপোজার হৃদরোগ ও শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতা ডেকে আনছে। কেবল মানুষের স্বাস্থ্য নয়, উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করায় গমের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের ফলন প্রতি বছর প্রায় ১৪%-১৫% হ্রাস পাচ্ছে।
সমাধানের পথ কী?
সিএসই-এর মতে, কেবল ধুলিকণা (PM2.5) নিয়ন্ত্রণ করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানার আধুনিকীকরণ এবং খোলা আকাশের নিচে আবর্জনা পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ওপর জোর দিয়েছে সিএসই।