ক্রীড়া ডেস্ক, সংবাদ একলব্য: ‘চিরশত্রু’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা। একেকটি ফুটবল ম্যাচ রূপ নেয় মহাকাব্যে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঠিক তেমনই এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ‘চিরশত্রু’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা। আটলান্টার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংরেজদের ২-১ গোলে হারিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন লিওনেল মেসিরা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোল আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিল খেতাবী লড়াইয়ের শেষ মঞ্চে।
প্রথমার্ধে ফুটবল নয়, চলল কুস্তি!
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ফুটবলের চেয়ে শারীরিক শক্তির প্রদর্শন বা ধস্তাধস্তি বেশি চোখে পড়েছে। প্রথমার্ধ শেষে ফাউলের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছিল ম্যাচের তীব্রতা (ইংল্যান্ড ৭, আর্জেন্টিনা ১২)। আটলান্টা স্টেডিয়ামের এই ম্যাচ যেন ফুটবল ম্যাচ নয়, রূপ নিয়েছিল এক নব্য ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধে’। রড্রিগো ডি’পলের জায়গায় স্কালোনি সিমিওনেকে নামিয়ে রক্ষণভাগকে সংহত করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে জোনাল নয়, বরং এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দিয়ে লিওনেল মেসিকে ‘ম্যান মার্কিং’ করার কড়া কৌশল নিয়েছিল। ফলে প্রথমার্ধ জুড়ে কেবল মাঝমাঠেই বল ঘুরপাক খেয়েছে, গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি বললেই চলে।
৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোল, ব্যাকফুটে আর্জেন্টিনা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে আর্জেন্টিনার রক্ষণে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স এবং অফসাইডের ফাঁদ তৈরির ভুলে বল পেয়ে যান মর্গান। তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত শটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল ডিফেন্সে অতিরিক্ত ফুটবলার নামিয়ে পুরো ‘তালা’ লাগানোর চেষ্টা করেন। মাঠের পরিস্থিতি দেখে যখন মনে হচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা হয়তো ম্যাচ থেকে ছিটকে যাচ্ছে, তখনই শুরু হয় আসল নাটক।
বুলেট শটে সমতা ফেরালেন এনজো ফার্নান্দেজ
পিছিয়ে পড়ে ফর্মেশন ভুলে অলআউট আক্রমণে ঝাঁপায় আর্জেন্টিনা। একের পর বাতাস আক্রমণ আছড়ে পড়তে থাকে ইংরেজ বক্সে। ৬৮ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের হেড এবং ৭৫ মিনিটে বারে লেগে বল ফিরে আসায় ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি আর্জেন্টিনার। তবে চাপ ধরে রাখার পুরস্কার মেলে ৮৫ মিনিটে। লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে দূরপাল্লার এক বুলেট শটে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। ১-১ গোলে সমতা ফিরতেই পুরো স্টেডিয়ামে গগনভেদী চিৎকার আছড়ে পড়ে।
অতিরিক্ত সময়ে লাউতারোর ম্যাজিক ও মেসির স্বপ্নের অ্যাসিস্ট
নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কোচ স্কালোনি ততক্ষণে মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প কার্ড লাউতারো মার্টিনেজকে। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে দেখা গেল লিও মেসির সেই চিরপরিচিত জাদু। বাঁ পায়ের জাদুকর এদিন ডান পায়ের অবিশ্বাস্য এক পাস বাড়ান লাউতারোর উদ্দেশ্যে। আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি লাউতারো মার্টিনেজ। ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় আর্জেন্টিনা।
ফাইনালে মেসি বনাম ইয়ামাল মহাযুদ্ধ
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর সমস্ত সমালোচনা আর ‘রেফারিং বিতর্কের’ উর্ধ্বে উঠে মাঠ জুড়ে শুধুই নীল-সাদা আবেগের জোয়ার। আগামী ১৯ জুলাই রাতের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী ফুটবল ‘ঈশ্বর’ লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা ও একঝাঁক দামাল ছেলের লড়াই, অন্যদিকে স্পেনের মাপা ফুটবল ও তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের গতি। ফুটবল বিশ্ব এখন মুখিয়ে রয়েছে এই ঐতিহাসিক শো-ডাউনের দিকে।
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল (FAQ)
প্রশ্ন ১: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা কাকে হারিয়েছে?
উত্তর: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে।
প্রশ্ন ২: মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি কোন দল হবে?
উত্তর: আগামী ১৯ জুলাই রাতের মেগা ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের স্পেন।