দিনহাটা: কোচবিহার জেলার দিনহাটা-২ ব্লকের বামনহাট চক্র সম্পদ কেন্দ্রের অন্তর্গত পাথারসন দুর্গানগর আর.আর. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠল। খোদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিডিওর (BDO) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই স্কুলেরই কয়েকজন সহকারী শিক্ষক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগের নিশানায় তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা
অভিযোগের তির যাঁর দিকে, সেই হানিফ সিকদার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি শাসকদলের একাধিক সাংগঠনিক পদের সঙ্গে যুক্ত। তিনি পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বামনহাট সার্কেল সম্পাদক এবং বামনহাট ২ নং অঞ্চল তৃণমূল যুব সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সহকারী শিক্ষকদের দায়ের করা অভিযোগপত্রে একাধিক গুরুতর আর্থিক অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে:
- তহবিল তছরুপ: বিদ্যালয়ের সরস্বতী পূজার প্রায় ৪,০০০ টাকার মুদি সামগ্রীর বিল বেআইনিভাবে মিড-ডে মিলের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।
- পুষ্টি কর্মসূচিতে বঞ্চনা: ২০২৬ সালের অতিরিক্ত পুষ্টি কর্মসূচির জন্য বিদ্যালয়ে ১৫,১২৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ১১ দিন অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র একদিন তা দেওয়া হয়েছে।
- চাল গায়েব: এপ্রিল ২০২৬-এর চালান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের জন্য ২৫০ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে মাত্র ১০০ কেজি (দুই বস্তা) চাল গ্রহণ করা হয়েছে, বাকি চালের কোনো হদিস নেই বলে অভিযোগ।
তদন্ত শুরু প্রশাসনের, সরব শিক্ষক সংগঠন
সহকারী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিডিও অফিসের মিড-ডে মিল শাখার পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, তদন্ত সম্পন্ন হলেও তার রিপোর্ট বা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের এখনও জানানো হয়নি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM)-এর কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি সঞ্জয় মোদক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। সঞ্জয় মোদকের দাবি, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বর্তমান বিদ্যালয়ে বদলি নিয়েছেন। বামনহাট-২ চক্র সম্পদ কেন্দ্রের একাধিক শিক্ষককে "স্টপ গ্যাপ"-এর নামে অন্যত্র বদলি করাতেও তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল।
এর আগেও হানিফ সিকদারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হেনস্থা ও হুমকির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিএলও (BLO) দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম ভেঙে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারে যুক্ত ছিলেন বলেও পূর্বে অভিযোগ উঠেছিল। এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ সিকদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
মিড-ডে মিল দুর্নীতি অভিযোগ (FAQ)
প্রশ্ন ১: কোথায় মিড-ডে মিল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: কোচবিহার জেলার দিনহাটা-২ ব্লকের পাথারসন দুর্গানগর আর.আর. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন ২: কার বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং অভিযোগগুলি কী?
উত্তর: প্রধান শিক্ষক হানিফ সিকদারের বিরুদ্ধে মিড-ডে মিলের চাল গায়েব করা, অতিরিক্ত পুষ্টি কর্মসূচির টাকা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে সরস্বতী পূজার বিল মেটানোর অভিযোগ উঠেছে।