ক্রীড়া প্রতিবেদক, সংবাদ একলব্য: নেইমারের পর আরও এক ফুটবল মহানায়কের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পর্তুগাল। ম্যাচের আগেই সিআরসেভেন (CR7) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ড্যালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই কোটি কোটি ভক্তের চোখে জল এনে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ ছাড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোল
ম্যাচজুড়েই দুই দলের মধ্যে তুমুল লড়াই চলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত কোনো পক্ষই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পেন। ম্যাচের ৯১ মিনিটের মাথায় স্পেনের ফেরান তোরেস এক দুর্দান্ত 'থ্রু বল' বাড়ান পরিবর্ত খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর দিকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনায়াসেই পর্তুগিজ গোলরক্ষক কোস্তাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। আর এই একটি গোলই পর্তুগালের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
উনাই সিমনের রেকর্ড ও প্রাচীর
ম্যাচে দুই দলের গোলরক্ষকই ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন এদিন এক অনন্য কীর্তি গড়েন। পর্তুগালের বিপক্ষে গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৬০৯ মিনিট ক্লিনশিট রাখার রেকর্ড গড়েন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপ ফুটবলে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ গোল না খেয়ে খেলার ক্ষেত্রে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ডের (২০০৬-১০) রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল স্পেন। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে রোনাল্ডোদের দুটি নিশ্চিত গোল দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন সিমন।
এক মহাকাব্যের বিষাদময় সমাপ্তি
ড্যালাস স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শকের করতালির মধ্য দিয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন রোনাল্ডো, তখন তাঁর চোখে ছিল স্বপ্নভঙ্গের জল আর মুখে চরম হতাশার ছাপ। ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সব ট্রফি জিতলেও পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে একটিও সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারলেন না সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। রাউন্ড অফ ১৬ থেকে পর্তুগালের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো অধ্যায়ের এক বিষাদময় সমাপ্তি ঘটল।