কোচবিহার, ২৭ জুলাই ২০২৬: গোরুকে 'রাষ্ট্রমাতা' (Rashtramata) বা 'রাষ্ট্র আরাধ্যা' হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্তরে একটি পৃথক 'গো-সেবা মন্ত্রক' (Central Ministry of Cow Service) গঠনের দাবিতে ফের সোচ্চার হলেন দেশের গো-ভক্ত এবং সচেতন নাগরিকরা। সোমবার, ২৭ জুলাই কোচবিহারের জেলাশাসকের মাধ্যমে ভারতের মহামহিম রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে এই বিষয়ে একটি স্মরণপত্র জমা দিল 'গো সম্মান আহ্বান অভিযান' (Gau Samman Aahvaan Abhiyan)।
গোরুকে 'রাষ্ট্রমাতা' ঘোষণার মূল দাবি ও প্রেক্ষাপট
সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ (Article 48) এবং ৫১এ(জি) [Article 51A(g)] ধারার মূল চেতনার ওপর ভিত্তি করে গো-বংশের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য একটি সুসংহত কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবিতে এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেশের ৫,১০০-র বেশি তহসিল থেকে সংগৃহীত ৫ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশালাকার পিটিশন বা গণস্বাক্ষরপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এত বড় একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা দেশের অগণিত মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই মহামহিম রাষ্ট্রপতিকে বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের অভিনব উদ্যোগ
এদিনের স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে 'গো সম্মান আহ্বান অভিযান'। বিপুল পরিমাণ কাগজ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে সংগৃহীত লক্ষ লক্ষ স্বাক্ষরের কাগজগুলি নষ্ট না করে, তা ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোট ২৮,১৩৭ জন নাগরিকের স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের নির্দেশ পেলে প্রমাণস্বরূপ মূল হার্ডকপিগুলিও অবিলম্বে পেশ করতে প্রস্তুত সংগঠনটি।
স্মারকলিপির সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সমূহ:
এই স্মরণপত্রের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিশিষ্ট (Appendix) যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- গো-বংশের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিস্তৃত রূপরেখা এবং বিনীত আবেদন।
- এই দাবির পেছনে আইনি ও গবেষণামূলক ভিত্তি।
- 'গো সম্মান আহ্বান অভিযান'-এর আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা।
মুখ্য পৃষ্ঠপোষক বেদলক্ষণা গোমাতা এবং সভাপতি নন্দী বাবার অনুপ্রেরণায় পরিচালিত এই দেশব্যাপী অভিযান আগামী দিনে গো-সংরক্ষণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এই বিপুল জনমতের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কোচবিহারে গোরুকে 'রাষ্ট্রমাতা' ঘোষণার দাবিতে কারা স্মারকলিপি দিল?
'গো সম্মান আহ্বান অভিযান'-এর সদস্যরা সোমবার কোচবিহারের জেলাশাসকের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
২. গোরুকে নিয়ে মূল দাবিগুলি কী কী?
মূল দাবি হলো গোরুকে 'রাষ্ট্রমাতা' (Rashtramata) হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্তরে একটি পৃথক 'গো-সেবা মন্ত্রক' গঠন করা।
৩. 'গো সম্মান আহ্বান অভিযান' কীভাবে স্বাক্ষর জমা দিয়েছে?
পরিবেশ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কাগজ বাঁচাতে সংগঠনটি লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দিয়েছে।