কোচবিহার: রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ফেলে গ্রেফতার হলেন কোচবিহারের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি (Former TMC District President) অভিজিৎ দে ভৌমিক। বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করে কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় (Kotwali Police Station) নিয়ে আসে পুলিশ। এই আকস্মিক গ্রেফতারির ঘটনায় কোচবিহার জেলা জুড়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গ্রেফতারের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতা। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে পারেননি। এমনকী, থানার বাইরে উপস্থিত তাঁর স্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে এটুকুই তিনি জানেন; কিন্তু কোন নির্দিষ্ট মামলায় বা ঠিক কোথা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই।
কী বলছে পুলিশ ও আইনজীবী?
কোচবিহার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারির কারণ বা নির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে, অভিজিৎ দে ভৌমিকের আইনজীবী নুরুল আমিন চৌধুরী এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে।
কী কী ধারায় মামলা রুজু হয়েছে?
আইনজীবী নুরুল আমিন চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক কড়া ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১২৬(২), ৩০৮(৫), ৩১৬(৫), ৩৫১(২) এবং ৩৫ ধারা।
- ক্রিমিনাল ল এমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (Criminal Law Amendment Act)-এর ১২৭এ ধারা।
- পাশাপাশি ১৯৫৯ সালের অস্ত্র আইন বা আর্মস অ্যাক্ট (Arms Act, 1959)-এর ২৫(১) ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর ধারা যুক্ত হওয়ায় এই গ্রেফতারি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতে পেশ করার পর কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
কোচবিহারে তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি (FAQ)
প্রশ্ন ১: কোচবিহারে পুলিশ কাকে গ্রেফতার করেছে?
উত্তর: কোচবিহারের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
প্রশ্ন ২: অভিজিৎ দে ভৌমিকের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে?
উত্তর: আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারার পাশাপাশি ১৯৫৯ সালের অস্ত্র আইন বা আর্মস অ্যাক্ট (Arms Act)-এর ২৫(১) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।