রাজ্যের আমজনতার জন্য নিখরচায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের 'আয়ুষ্মান ভারত' যোজনার সুবিধা যেসব নাগরিক প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে পাবেন না, তাঁদের সরাসরি রাজ্যের নতুন 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা'র (CM Health Insurance Scheme) আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন ভরসা
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লক্ষ্য একটাই—রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে স্বাস্থ্য সুরক্ষার চাদরে মুড়ে ফেলা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকার কারণে অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "রাজ্যের একজন মানুষও যাতে চিকিৎসার অভাব বা অর্থাভাবের কারণে সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রের যোজনায় যারা কভারড নন, তাঁদের পাশে দাঁড়াবে রাজ্যের এই নতুন স্বাস্থ্য বিমা।"
৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা
ঘোষনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনির অসুখের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারও এই বিমার মাধ্যমে করা সম্ভব হবে। বিমার প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার, ফলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কোনো বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে না।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ রাখা হচ্ছে। রেশন কার্ড এবং আধার কার্ডের ভিত্তিতেই যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হবে। খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে বিশেষ ক্যাম্প করে এই বিমা যোজনার কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে। যারা ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা বাদে বাকি সমস্ত যোগ্য পরিবারকে ধাপে ধাপে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ ও শহরতলীর সাধারণ মানুষের কাছে নিখরচায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী। বিরোধীরা অবশ্য এই প্রকল্প রূপায়ণের খরচ এবং রাজ্যের কোষাগারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, শাসক শিবিরের দাবি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তহবিলের কোনো অভাব হবে না।
এ ছাড়াও রেজিনগর থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে জি রামজি প্রকল্প চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকার আরও ৩ হাজার টাকা যুক্ত করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।