ডিজিটাল ডেস্ক, সংবাদ একলব্য: দীর্ঘ দিন ধরে চলা আন্দোলন ও উত্তেজনার পর অবশেষে জয় এলো ককরোচ জনতা পার্টির। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দিল্লির জন্তর-মন্তর থেকে নিজেদের আন্দোলন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সরকারের এই নমনীয় মনোভাবকে নিজেদের সুদীর্ঘ লড়াইয়ের 'ঐতিহাসিক জয়' হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলিতে সিলমোহর
সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পর একটি যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বছর থেকে NEET সহ অন্যান্য সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম রোখার জন্য একটি কঠোর আইন প্রণয়ন এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের গতি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সমস্ত আইনি মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়েও সরকার সম্মতি জানিয়েছে। এমনটাই খবর। সিজেপি-র অন্যতম দাবি ছিল, কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। কেন্দ্র সেই দাবি মেনে নিয়েছে বলে জানান সৌরভ। তাঁর কথায়, ‘‘এই দাবি শুধু দিল্লিতে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেই সব মামলা তোলার দাবি ছিল। সেই দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।’’ শীঘ্রই দায়ের হওয়া সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র বলেন, ‘‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে এখনও পর্যন্ত দায়ের হওয়া সব এফআইআরের প্রতিলিপি বিক্ষোভকারীদের দেবে।’’ সিজেপি চায়, তিন-চার দিনের মধ্যে সরকার প্রতিশ্রুতি পালন করবে। নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে এই দাবিও ছিল সিজেপির। সেই দাবিও মেনে নেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্র সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র আশুতোষ। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় মেনে নিয়েছে।’’
অবস্থান প্রত্যাহারের ঘোষনা সিজেপির
দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করার পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন। বৈঠক শেষে নড্ডাদের পাশে বসে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান প্রত্যাহারের কথা জানান সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ। সৌরভ বলেন, ‘‘সদিচ্ছার সঙ্গেই অবস্থান প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আমরা আশা করি তাদের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই সব শর্ত পূরণ করবে সরকার।’’ এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমেই হয়েছে বলে জানায় সিজেপি।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও অনশন
নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দফায় দফায় রাজধানীর রাজপথে আন্দোলন ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারন করে। তরুণ প্রজন্ম তো বটেই, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভিড় চোখে পড়ে তাদের আন্দোলনে। ৬ই জুন বস্টন থেকে দেশে ফেরেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তারপর শুরু হয় আন্দোলন। ২০ই জুন যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে তারা। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি গুলোকে সমর্থন জানিয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন (hunger strike)-এ বসেন। টানা ৩৬ দিন অবস্থান চালানোর পর শনিবার তা প্রত্যাহার করল সিজেপি। আজ কেন্দ্রের সাথে বৈঠকের আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করেন। সিজেপির এক নম্বর দাবি ছিল এটিই। শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে নড্ডাদের সঙ্গে সিজেপি-র তৃতীয় দফার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কেন্দ্র সিজেপি এর সকল দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বলেই অনশন ও আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন বলে দাবি সিজেপির। বৈঠকে কেন্দ্রের কাছে একটি খসড়াপত্র জমা দিয়েছে সিজেপি। নড্ডা জানান, ওই খসড়াপত্রটি পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে সিজেপি-র সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবে কেন্দ্র।