কলকাতা: আসন্ন ২০২৭ সালের জনগণনা (Census-2027) নিয়ে শিক্ষক এবং স্কুল কর্মীদের জন্য একটি কড়া নির্দেশিকা সামনে এল। শিক্ষক-সংকট বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে জনগণনার দায়িত্ব (Census Duty) থেকে অব্যাহতি পাওয়া আর সহজ হবে না। কলকাতা পৌর নিগম (KMC)-এর সেন্সাস সেল থেকে কলকাতার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (DI of Schools, PE) কাছে পাঠানো ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ডিউটি প্রত্যাখ্যান করলে কড়া আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।
জনগণনা-২০২৭: শিক্ষক ও ক্লার্কদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিউটি
KMC-এর অধীনস্থ এলাকায় ২০২৭ সালের জনগণনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বৃহৎ সরকারি কাজের জন্য শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং ক্লার্কদের 'এনিউমেরেটর' (Enumerator) এবং 'সুপারভাইজার' (Supervisor) হিসেবে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে KMC-এর কাছে রিপোর্ট এসেছে যে, বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষক কর্মী-সংকটের কারণ দেখিয়ে শিক্ষকদের ছাড়তে চাইছেন না। পাশাপাশি, অনেক শিক্ষকও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা ছাড় (Exemption) চেয়ে আবেদন করছেন।
দায়িত্ব এড়ালে কড়া আইনি শাস্তির বিধান
এই ধরনের আবেদনের প্রেক্ষিতে KMC স্পষ্টতই কড়া অবস্থান নিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮ (Census Act, 1948)-এর ধারা ৫ ও ১১ অনুযায়ী জনগণনার দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
- জরিমানা: এই দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
- কারাদণ্ড: বিষয়টি আদালতে গড়ালে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে আইনে।
কাজের সময়সূচিতে থাকছে নমনীয়তা
শিক্ষকদের সুবিধার্থে KMC জানিয়েছে যে, জনগণনার এই কাজ কোনো একটানা ডিউটি নয়। এটি মূলত দুটি ধাপে (Phase I ও Phase II) সম্পন্ন হবে। কাজের সময়সূচি যথেষ্ট নমনীয় (Flexible) রাখা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষকরা তাঁদের নিজেদের সুবিধামতো সময়ে এই সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
জনগণনা ডিউটি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: জনগণনার দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করলে কী শাস্তি হতে পারে?
উত্তর: সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮ অনুযায়ী দায়িত্ব এড়ালে ১,০০০ টাকা জরিমানা এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রশ্ন ২: শিক্ষকরা কি কাজের সময় নিয়ে ছাড় পাবেন?
উত্তর: KMC জানিয়েছে যে, কাজের সময়সূচি নমনীয় রাখা হয়েছে যাতে শিক্ষকরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।