মাকে আর 'রাধে, রাধে' বলা হলো না... জম্মু থেকে ফিরল মহিলা বিএসএফ জওয়ান বিষ্ণুপ্রিয়ার নিথর দেহ

BSF female jawan Bishnupriya Roy death body returned to Jalpaiguri
ছবি: গ্রামে ফিরল জওয়ানের নিথর দেহ, শোকের ছায়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: "হ্যালো" নয়, প্রতিদিন মাকে ফোনে বলতেন "রাধে, রাধে"। সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর আজ চিরতরে থেমে গেল। জম্মুতে কর্তব্যরত অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মানিকগঞ্জ এলাকার শালবাড়ী গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে ২৪ বছরের বিএসএফ কর্মী বিষ্ণুপ্রিয়া রায়ের মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, প্রতিদিনই মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন বিষ্ণুপ্রিয়া। কিন্তু সেই কথোপকথনের শুরু কখনও "হ্যালো" দিয়ে হতো না। তাঁর প্রিয় সম্ভাষণ ছিল, "রাধে, রাধে"। মায়ের কানে আজও যেন সেই ডাকই ভেসে আসে। তাই পরিবারের বিশ্বাস, যে মেয়ে প্রতিদিন এত আন্তরিকভাবে বাড়ির খোঁজ নিত, সে এভাবে সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে পারে না।

মেধাবী ছাত্রী থেকে বিএসএফের ল্যাব টেকনিশিয়ান

জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের মানিকগঞ্জ থানার অন্তর্গত শালবাড়ী গ্রামে। ২০২৩ সালে তিনি বিএসএফে (BSF) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি জম্মুতে ৫৩ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বিষ্ণুপ্রিয়াকে জম্মুর পাল্লৌরা সদর দপ্তরে বিএসএফের ল্যাব টেকনিশিয়ান কোর্সের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল।

মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

সোমবার সকালে জম্মুর পাল্লৌরা বিএসএফ কোয়ার্টারে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যান থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর নেপথ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। শোকস্তব্ধ পরিবেশে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন এবং গ্রামবাসীরা। পরে দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ির রাঙাপানি বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

দেশের সেবায় নিয়োজিত এক তরুণীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা এলাকার হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ রেখে গেল। আর তাঁর মায়ের কানে হয়তো সারাজীবনই বাজতে থাকবে সেই পরিচিত সম্ভাষণ— "রাধে, রাধে..."

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in