বারুইপুর/কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ রাজ্য রাজনীতি। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাজ্যে 'সুপার এমার্জেন্সি' জারি করেছে বর্তমান শাসক দল।
কী ঘটেছিল বারুইপুরে?
বারুইপুরে এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে ৪ জনের বিরুদ্ধে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ওই নাবালিকাকে যৌন নিপীড়ন, মাথায় আঘাত ও অচৈতন্য অবস্থায় পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার পর ক্ষিপ্ত জনতা এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারে, তবে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল অভিযুক্ত-সহ বাকি ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার বাবাকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দোষীদের চরম শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন।
পুলিশের গাফিলতি ও গ্রেপ্তার
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল পর্যন্ত মোট ২ জনকে (প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের জেরা করেই আনন্দ সর্দারের হদিশ পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারুইপুরের পুরাতন বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বারুইপুর থানার ভূমিকায় অসন্তুষ্ট রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তারা। খবর পাওয়ার পর আইসি-সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের কী ভূমিকা ছিল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রাথমিকভাবে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও ১৪৪ ধারা জারি
আজ বারুইপুর নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও শমিক লাহিড়ীর একটি প্রতিনিধি দল। এলাকায় এদিন সকালেও যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এখনও ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষজন। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় বিএনএসএসের (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
মমতাকে বাধা! 'সুপার এমার্জেন্সি' তোপ তৃণমূলের
এই ঘটনার পরই বারুইপুরে যাওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তাঁর কালীঘাটের বাসভবনের বাইরে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল এবং মদন মিত্ররা এই ঘটনাকে 'গণতন্ত্রের হত্যা' ও 'সুপার এমার্জেন্সি' বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করে বলেন, রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফাঁকা আওয়াজে পরিণত হয়েছে।
বারুইপুরে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজ বিকালে প্রতিবাদ মিছিলে মোমবাতি হাতে পথে নামেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জি কর কাণ্ডের সময় 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগান এবং মেয়েদের রাতদখল কর্মসূচিকে তিনি নিছক একটি 'হুজুগ' বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু আজ তিনি বিরোধী আসনে বসেই সেই একই 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগানকে হাতিয়ার করে বারুইপুর ইস্যুতে পথে নামলেন।
বারুইপুর কাণ্ড সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: বারুইপুরে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ৪ জন মিলে ধর্ষণ ও খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন ২: পুলিশ এই ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে?
উত্তর: ক্ষিপ্ত জনতার হাতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং পুলিশ মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রশ্ন ৩: তৃণমূল কংগ্রেস কেন 'সুপার এমার্জেন্সি'র অভিযোগ তুলছে?
উত্তর: নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গৃহবন্দি করে রাখার প্রতিবাদেই তৃণমূল এই অভিযোগ তুলেছে।