বামনহাটে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল! বিজেপি কর্মী উপর হামলার অভিযোগে কাঠগড়ায় মণ্ডল সম্পাদিকার স্বামী

BJP infighting and worker attacked in Bamanhat Dinhata
ছবি: আক্রান্ত বিজেপি কর্মীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে

সমীর হোসেন, দিনহাটা: বামনহাটে ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল! বিজেপি কর্মী অমিত দত্তের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল, আর এই ঘটনায় কাঠগড়ায় দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডল সম্পাদিকার স্বামী। দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডলের বামনহাট এলাকায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে এক বিজেপি কর্মীর ওপর হামলার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঠিক কী অভিযোগ?

অভিযোগ, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বিজেপি কর্মী অমিত দত্ত নিজের বাড়ির সামনে মোবাইলে কথা বলছিলেন। সেই সময় দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডল সম্পাদিকা ডলি ভট্টাচার্যের স্বামী বাপ্পা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। অমিত দত্তের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে একটি সেলফ হেল্প গ্রুপের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জেরেই তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা হয়েছে।

অমিত দত্তের দাবি, হামলায় তাঁর মাথার পিছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কোমরে লাথি মারা হয়। পাশাপাশি তাঁর গলার সোনার চেন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আহত অমিতের চিৎকার শুনে তাঁর দাদা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।

মণ্ডল সম্পাদিকার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আক্রান্তের দাদার

অমিতের দাদা সুমিত দত্ত জানান, হামলায় জড়িত ৭-৮ জনের মধ্যে তিনি তিনজনকে শনাক্ত করেছেন। তাঁদের নাম হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বাপ্পা ভট্টাচার্য, অমিত পাল এবং গুড্ডু।

এদিকে অমিতের দাদা দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডল সম্পাদিকা ডলি ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, "এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং যিনি ভোট দিতে পারেননি, তিনি কীভাবে মণ্ডল সম্পাদিকার দায়িত্বে রয়েছেন—সেই প্রশ্নের উত্তর দলকে দিতে হবে।" এছাড়াও এই ঘটনায় দিনহাটা ৩ নং মণ্ডল সভাপতি চাণক্য বর্মন যুক্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ সুমিত দত্তের। তিনি বলেন, বিষয়গুলি অবিলম্বে সমাধান না করা হলে তাঁরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।

অভিযোগ অস্বীকার মণ্ডল সভাপতির

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি চাণক্য বর্মন। তিনি বলেন, "অমিতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। গতকালও একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে। এই ঘটনায় আমিও মানসিকভাবে মর্মাহত। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দলের কেউ যুক্ত থাকলে সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মণ্ডল সম্পাদিকা ও তাঁর স্বামী কী জানালেন?

এই বিষয়ে অভিযুক্ত দিনহাটা ৩ নং মন্ডল সম্পাদিকা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, "এই ঘটনায় আমার স্বামী কোনোভাবেই জড়িত নয়। তাঁরা বাড়িতে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখতে পায় এবং সেখানে দাঁড়িয়ে ঝামেলা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।" সোনার চেন এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "যাঁরা রেলের জায়গায় থাকে, তাঁদের কি সোনার চেন ব্যবহার করার ক্ষমতা রয়েছে? সোনার চেন ব্যবহার করলে তাঁরা নিশ্চয়ই রেলের জায়গায় থাকত না।"

এছাড়াও ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটা তৃণমূলের কাজ। যেহেতু আমি আসামের বাসিন্দা, তাই লিংক প্রমাণ করাটা একটু কঠিন ছিল। তবে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা রয়েছে, সেখানে বিষয়টি মিটে যাবে।"

অন্যদিকে বাপ্পা ভট্টাচার্য বলেন, "এই ঘটনায় আমি কোনোভাবেই যুক্ত নই। আমি বাড়ি যাবার সময় ঘটনাটি দেখতে পাই এবং যাঁরা সেখানে ঝামেলা করছিলেন তাঁদেরকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা কথা শোনেনি, ফলে আমি বাড়ি চলে আসি।" মোবাইল বা সোনার চেন ছিনতাইয়ের বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: হামলার এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণভাবে অভিযোগকারীদের নিজস্ব দাবি। পুলিশ প্রশাসন বা দলীয় নেতৃত্ব ঘটনার তদন্ত করছে।

বামনহাটের ঘটনা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: বামনহাটে বিজেপি কর্মীর ওপর হামলার কারণ কী বলে অভিযোগ?

উত্তর: আক্রান্ত বিজেপি কর্মী অমিত দত্তের অভিযোগ, একটি সেলফ হেল্প গ্রুপের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

প্রশ্ন ২: হামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে কার নাম উঠে এসেছে?

উত্তর: হামলায় দিনহাটা ৩ নম্বর মণ্ডল সম্পাদিকা ডলি ভট্টাচার্যের স্বামী বাপ্পা ভট্টাচার্যের নাম মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রশ্ন ৩: অভিযুক্ত মণ্ডল সম্পাদিকা ও তাঁর স্বামী কী জানিয়েছেন?

উত্তর: তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা কেবল বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সাংবাদিক-সমীর হোসেন

বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সমীর হোসেন ২০২১ সালে 'সংবাদ একলব্য'-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা জগতে পা রাখেন এবং বর্তমানে এই পোর্টালের একজন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত।

editor@sangbadekalavya.in