কলকাতা: রাজ্যে "র্যাশনালাইজেশন অফ সারপ্লাস টিচার্স" (Rationalization of Surplus Teachers) প্রক্রিয়া কার্যকর করার আগে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সাধারণ ও মিউচুয়াল বদলির জট খোলার দাবি জানাল শিক্ষক সংগঠন "অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন" (APGTWA)। শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং স্কুল শিক্ষা কমিশনার নিখিল নির্মলকে একটি বিস্তারিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, স্কুল শিক্ষা দপ্তর শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ঠিক করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সাধুবাদযোগ্য। তবে সারপ্লাস নিয়মের আগে 'উৎসশ্রী' (Utshasree) পোর্টালে জমে থাকা সমস্যাগুলি দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সময়ও চেয়েছে শিক্ষক সংগঠনটি।
APGTWA-এর মূল দাবিগুলি কী কী?
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক গাইডলাইনে কিছু সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে APGTWA। তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- অগ্রাধিকার ও নিয়ম শিথিল: ১০-১৫ বছর ধরে ৫০০-৭০০ কিমি দূরে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বদলিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার এবং ৭০% এর বেশি অনুমোদিত পোস্ট থাকা স্কুলগুলির ক্ষেত্রে বদলির নিয়ম শিথিল করতে হবে।
- আটকে থাকা বদলি: এসএসসি এবং বিকাশ ভবনে আটকে থাকা কয়েকশো জেনারেল এবং মিউচুয়াল ট্রান্সফারের (Mutual Transfer) আবেদন দ্রুত খতিয়ে দেখে রেকমেন্ডেশন ও অর্ডার দিতে হবে।
- মিউচুয়াল বদলির সরলীকরণ: মিউচুয়ালের ক্ষেত্রে সময়সীমা কমিয়ে ২ বছর করতে হবে এবং একাধিকবার এই বদলির সুযোগ দিতে হবে। প্রতিবন্ধী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
- এইচওআই এনওসি (HOI NOC) বাতিল: মিউচুয়াল বদলির ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের (HOI) থেকে নতুন করে 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (NOC) নেওয়ার যে নিয়ম চালু হয়েছে, তা বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
- সেকশন সমস্যা সমাধান: জুনিয়র হাইস্কুলের ইচ্ছুক পিজি (PG) শিক্ষকদের নিজ জেলায় বাড়ির কাছের হাইস্কুলে বদলি এবং গভর্মেন্ট স্পনসর্ড/এইডেড স্কুলের নরমাল ও এইচএস সেকশনের শিক্ষকদের বদলি সমস্যার সমাধান করতে হবে।
উৎসশ্রী পোর্টালে প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ
কেবলমাত্র নীতিগত দাবিই নয়, উৎসশ্রী পোর্টালের একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়েও সরব হয়েছে সংগঠনটি।
| পোর্টালের সমস্যা | বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|
| ভুল ভ্যাকেন্সি প্রদর্শন | বহু স্কুলের আপডেট ও সঠিক ভ্যাকেন্সি দেখা যাচ্ছে না। |
| NOC আপলোডে বাধা | 'NOC Pending' দেখালেও প্রধান শিক্ষকরা পোর্টাল থেকে তা অ্যাক্সেস বা আপলোড করতে পারছেন না। |
| আবেদনে গরমিল | ট্রান্সফার ফর্ম প্রিন্ট করার সময় ভ্যাকেন্সি বা স্কুলের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যাচ্ছে। |
| অ্যানোমালি | বহু শিক্ষকের প্রোফাইল নিয়মবহির্ভূতভাবে আনলক হয়ে আছে। আগের আবেদন বাতিলের (Cancel) কোনো অপশন নেই। |
সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে পোর্টালের গাফিলতিতে শত শত শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও মসৃণ করতে অবিলম্বে পোর্টালের এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করার আর্জি জানানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে।