নবান্ন/কলকাতা: গ্রান্ট-ইন-এড (Grant-in-Aid) আওতাভুক্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, লাইব্রেরিয়ান, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) ও মহার্ঘ ভাতা রিলিফ (DR) দ্রুত মেটানোর দাবিতে সরব হলো 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (APGTWA)। এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব প্রভাত কুমার মিশ্রের কাছে এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও মেলেনি বকেয়া
সংগঠনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় (Civil Appeal Nos. 792-794 of 2026) এবং রোপা-২০০৯ (ROPA-2009) সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আদেশের ভিত্তিতে রাজ্য অর্থ দপ্তর গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক নির্দেশিকা (Memo No. 998-F(P2)) জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ/ডিআর প্রদান করার কথা ছিল। পরবর্তীকালে গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের মাধ্যমে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি (Memo No. 1338(7)-F(P2)) প্রকাশ করা হলেও, গ্রান্ট-ইন-এড দপ্তরের অধীনে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েক লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া ডিএ প্রদান করা হয়নি।
ফলপ্রসূ হয়নি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও
আন্দোলনকারী শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা আংশিক বকেয়া পেলেও গ্রান্ট-ইন-এড দপ্তরের আওতাধীন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীরা এখনো পুরোপুরি বঞ্চিত। এমনকি বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তর এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
সংগঠনের সভাপতি মনোজ কুমার মণ্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক চন্দন গড়াইয় জানিয়েছেন, বিষয়টি যেন রাজ্য সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মীর স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন জারি করে বকেয়া ডিএ ও ডিআর প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিক্ষক সংগঠনের বকেয়া ডিএ দাবি (FAQ)
প্রশ্ন ১: APGTWA কেন মুখ্য সচিবকে স্মারকলিপি দিয়েছে?
উত্তর: গ্রান্ট-ইন-এড আওতাভুক্ত শিক্ষক ও কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) ও মহার্ঘ ভাতা রিলিফ (DR) দ্রুত মেটানোর দাবিতে APGTWA এই স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
প্রশ্ন ২: নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ কেন পাননি শিক্ষকরা?
উত্তর: অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা ও এসওপি প্রকাশ করা হলেও, প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে গ্রান্ট-ইন-এড দপ্তরের অধীনে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এখনও বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।