‘দলে ফিরে আসুন, এক ঘণ্টায় ইস্তফা দেব’, বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

অভিষেকের বড় বার্তা বিদ্রোহীদের
Graphics: SE


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের 'নবীন-প্রবীণ' দ্বন্দ্ব এবং সাম্প্রতিক একাধিক নেতার দলত্যাগ ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এবার আরও চড়ল। দলে নিজের ভূমিকা ও নেতৃত্ব নিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাদের তোলা প্রশ্নের মুখে এবার সরাসরি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মন্তব্যে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিক্ষুব্ধ নেতারা যদি মনে করেন যে তিনিই দলের মূল সমস্যা, তবে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। তবে তার বদলে বিক্ষুব্ধদের আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফিরে আসতে হবে।


নেতৃত্বের বিরোধ ও সাম্প্রতিক দলত্যাগ

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্বের একাংশের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে প্রবীণ নেতাদের একাংশ সরাসরি সরব হয়েছেন অভিষেকের কর্পোরেট ধাঁচের কর্মপদ্ধতি এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে। এই সংকটের মাঝেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। এদিকে রাজ্য রাজনীতিতেও তৃণমূলের 'মূল' সংগঠন নিয়ে টানাটানি চলছে। বিধানসভায় তৃণমূলের দুই ভাগ। ঋতব্রত শিবির ও কালীঘাট শিবির। সব মিলিয়ে ২৬-র নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের ভাঙন ব্যাপক আকার ধারন করেছে। 


দলে ফিরলেন, ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের 

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, "দলের প্রবীণ নেতারা যদি মনে করেন আমার কারণেই তারা অসন্তুষ্ট হয়ে দল ছাড়ছেন বা দলের ক্ষতি হচ্ছে, তবে আমি এই মুহূর্তে পদ থেকে সরে যেতে রাজি। ১ ঘণ্টার মধ্যে আমি ইস্তফা দেব। কিন্তু শর্ত একটাই, তাদের পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় ফিরে আসতে হবে।" অভিষেক বলেন, “মানুষ বোকা নয়। দরকার হলে আজই আসুন। আপনারা ফিরে আসুন, আমি এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি। কেউ আসবে না। ডিল হচ্ছে ও দিকে যাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দাও। তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব। ইডিও ধরবে না, সিবিআই-ও ধরবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা এখন হয় পুলিশের হাতে ধৃত, নয়তো বালিশচাটা ঋতব্রত।” 



বিক্ষুব্ধদের প্রতি পুনর্নির্বাচনের কড়া চ্যালেঞ্জ

একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ ও দলত্যাগীদের তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি জানান, যারা মনে করছেন জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তারা দল ছেড়েছেন, তারা অবিলম্বে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করুন। এরপর পদ্ম শিবিরের (বিজেপি) টিকিটে নতুন করে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতে দেখান যে সাধারণ মানুষ সত্যিই তাদের পাশে আছে। যদি জনগণ তাদের সমর্থন দেয়, তবেই তারা যেন সংসদ ভবনে পা রাখেন। 


রাজনৈতিক সমীকরণ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই মন্তব্য আসলে দলের ভেতরে ও বাইরে থাকা বিরোধীদের ওপর এক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। একদিকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়ে তিনি যেমন দলের স্বার্থে নিজের 'ত্যাগী' ভাবমূর্তি তুলে ধরলেন, ঠিক তেমনই প্রবীণ শিবিরের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বলটি তাদের কোর্টেই ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। এখন দেখার, অভিষেকের এই খোলা চ্যালেঞ্জের পর তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in