সাধারণ মানুষের স্বার্থে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের! পেট্রোল পাম্পে এবার মিলবে এই সুবিধা , ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যবাসীর দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কন্টেইনার বা পাত্রে ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় কৃষক, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল, তার সমাধানে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার অবিলম্বে এই বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় কী জানানো হয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের পক্ষ থেকে ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা এবং চা বাগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে জ্বালানির বিধিনিষেধের আওতা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তেল কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী কী সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা?
- কন্টেইনারে ডিজেল: জরুরি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলো এখন থেকে কন্টেইনার বা ব্যারেলে সহজেই ডিজেল কিনে নিয়ে যেতে পারবেন।
- সর্বাধিক সীমা শিথিল: জ্বালানি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিদিন যে সর্বাধিক সীমা (Daily Dispensing Limits) নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাও বিশেষ ক্ষেত্রগুলির জন্য শিথিল করা হয়েছে।
- নথিপত্র: নির্ঝঞ্ঝাটভাবে ডিজেল পাওয়ার জন্য পাম্পগুলোতে শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিচয়ের নথিপত্র (যেমন— ট্রেড রেজিস্ট্রেশন, জমির নথিপত্র বা অফিসিয়াল রিকুইজিশন) দেখালেই চলবে।
কোন কোন ক্ষেত্র এই ছাড়ের আওতাভুক্ত?
রাজ্য সরকার যে সমস্ত ক্ষেত্রকে এই ছাড়ের আওতাভুক্ত করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা: হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা।
- কৃষি ও খাদ্য সরবরাহ: চাষবাসের কাজ, ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম, কোল্ড স্টোরেজ এবং বেকারি শিল্প।
- জনপরিষেবা: আবাসিক আবাসন ও সরকারি দপ্তরে জেনারেটরের পরিচালনা।
- চা বাগান: চা বাগানের প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ও পরিবহণ ব্যবস্থা।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, "আমাদের সরকার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতি কোনো বাধা ছাড়াই যেন সুচারুভাবে এগোতে থাকে তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক কন্টেইনারে (পাত্রে) ডিজেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে আমাদের পরিশ্রমী কৃষক ভাইরা, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেছে।"
ডিজেল সরবরাহের নতুন নিয়ম সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে কন্টেইনার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা কি পুরোপুরি উঠে গেল?
উত্তর: না, পুরোপুরি ওঠেনি। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, চা বাগান ও জনপরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রের গ্রাহকদের জন্য এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
প্রশ্ন: কন্টেইনারে ডিজেল কেনার সময় পাম্পে কী কী নথিপত্র দেখাতে হবে?
উত্তর: ঝঞ্ঝাটমুক্ত ডিজেল পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের ট্রেড রেজিস্ট্রেশন, জমির নথিপত্র বা অফিসিয়াল রিকুইজিশন—এই ধরনের যেকোনো একটি প্রাথমিক পরিচয়ের নথিপত্র দেখাতে হবে।
প্রশ্ন: প্রতিদিন ডিজেল নেওয়ার ক্ষেত্রে যে সীমা নির্ধারণ করা ছিল তার কী হবে?
উত্তর: উল্লিখিত জরুরি পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোর জন্য পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেল নেওয়ার দৈনন্দিন সর্বোচ্চ সীমা (Daily Dispensing Limits) শিথিল করা হয়েছে।