Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় পাস ঐতিহাসিক ‘গুন্ডাদমন বিল’
ডিজিটাল ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসাত্মক আন্দোলনের রাশ টানতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আজ বিধানসভায় বিপুল ভোটে পাস হয়ে গেল বহুল চর্চিত ‘কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’ (Control of Anti-Social Activities Bill) বা গুন্ডাদমন বিল। বিল পাসের পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সরাসরি গ্রেফতারের পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই ক্ষতিপূরণ উসুল করা হবে।”
বিধানসভায় ধ্বনি ভোট পাশ হল গুন্ডা দমন বিল
বিধানসভায় ধ্বনি ভোট পাশ হল গুন্ডা দমন বিল। গুন্ডা দমন বিল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। আজ দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলে। এবং সেই আলোচনার পর অবশেষে হয় ভোটভুটি। সেই ভোটাভুটিতে দেখা গেল, সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর এই বিলের পক্ষে তাঁরা ভোট দেওয়ার ফলে বিধানসভায় পাস হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল। প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে ভোট দেন ১৭৬ জন বিধায়ক, বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪১টি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ২০ জন বিধায়ক।
কী রয়েছে এই নতুন আইনে?
এতদিন সাধারণ ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দোষীদের থেকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন এই আইন সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করবে।
বিলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ: দাঙ্গা বা হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলে, অভিযুক্তদের সম্পত্তি ক্রোক (বাজেয়াপ্ত) করে সেই টাকা থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
১ বছরের প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার: অপরাধের অতীত রেকর্ড বা ‘ক্রিমিনাল ট্র্যাক রেকর্ড’ খারাপ থাকলে, যেকোনো দলের বা মতাদর্শের নেতা-কর্মীই হোক না কেন, তাকে ১ বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার (Preventive Arrest) করে রাখা যাবে।
সমাজবিরোধী ও গুন্ডাদের চিহ্নিতকরণ: এই আইনের অধীনে কারা ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’র তালিকায় পড়বে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
"দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি ছাড়া করব", হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর
আইনটির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা হিংসা রুখে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। এতদিন অপরাধীরা ৬ বা ৮ মাস জেলে থেকে বেরিয়ে এসে আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরত, ভোট লুঠ করত। এই সংস্কৃতি এবার বন্ধ হবে। কোনো দাঙ্গাবাজের ঠাঁই এই বাংলায় হবে না, প্রয়োজনে ভিটেমাটি ছাড়া করব।" রাজনৈতিক কর্মসূচি করার ক্ষেত্রেও এখন থেকে আদালতের নিয়ম ও যথাযথ প্রশাসনিক অনুমতি মেনে চলার কড়া বার্তা দেন তিনি। তিনি বলেন, "আশা করি রাজনৈতিক লড়াই করবেন। অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করবেন। আমাকে ১০৪-বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তো ১৫ দিনের মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন।"
মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে
শাসক শিবিরের দাবি, এই আইন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির একাংশ এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে আজ ধ্বনি ভোটে বিলটি বিধানসভায় অনুমোদিত হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন এই কড়া আইন কার্যকর হলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড়সড় বদল আসতে চলেছে।