শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার ইএসআই অফিসে পরিষেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ, দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল অফিস চত্বর

শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার ইএসআই অফিসে পরিষেবায় চরম হয়রানি, দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল অফিস চত্বর

Siliguri ESIC office harassment

অমিত বনিক, সংবাদ একলব্য: কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগম (ESIC) হলো ভারতের স্বল্প আয়ের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য একটি সার্বিক সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প। সাধারণত ১০ জন বা তার বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের যে সমস্ত কর্মচারীর মাসিক বেতন ২১,০০০ টাকা বা তার কম, তারা নিজেদের এবং নিয়োগকর্তার সামান্য মাসিক চাঁদার বিনিময়ে এই স্কিমের আওতাভুক্ত হন যাতে বিপদকালে সাহায্য পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন।

শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার ইএসআই অফিসে (Siliguri ESIC office) স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে গিয়ে চরম হয়রানির (ESIC service harassment) অভিযোগ তুলেছেন একাধিক গ্রাহক। তাঁদের দাবি, কখনও "নেটওয়ার্ক নেই", কখনও "সময় নেই"—এই অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্বাস্থ্য বিষয়ে এমন হয়রানির শিকার এখানে আসা দূর-দূরান্তের মানুষ। এই সমস্ত অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার ইএসআই অফিস।

অভিযোগ, অফিস ও হাসপাতালের মধ্যে বারবার পাঠানো হলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় পরিষেবা (Matigara ESIC complaints)। বিভিন্ন তালিকায় উঠে এসেছে রক্ত পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর খাবারের জন্যও অর্থ নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ।

শিক্ষিকা পুনম কুমারির অভিযোগ, অনেক কষ্টে ছুটি নিয়ে এখানে আসতে হয়, কিন্তু নানান অজুহাতে আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, এমনকি এখানকার কর্মচারীদের ব্যবহারও ভালো নয়। উত্তর দিনাজপুর থেকে আসা এম ডি ভৌমিক জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য চারদিন থেকে ঘুরতে হচ্ছে। একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন কাকাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসা বিকাশ ঠাকুরও।

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত এই ধরনের সমস্যার সমাধান করে ইএসআই পরিষেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। এই প্রকল্পের অধীনে (Employee State Insurance corruption) বীমাকৃত কর্মী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ খরচের সীমা ছাড়াই বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার অধিকারী। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের অভিযোগ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের এই আর্থিক সুরক্ষা বলয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি অসুস্থতাজনিত ছুটিতে বেতনের ৭০-৮০% আর্থিক সাহায্য, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং দুর্ঘটনার জেরে আজীবন পেনশনের সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবের পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সাংবাদিক-অমিত বনিক

জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে যুক্ত। ২০২০ সাল থেকে তিনি সংবাদ একলব্যের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

editor@sangbadekalavya.in