নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যে পাকাপাকিভাবে প্রবেশ করেছে বর্ষা, আর শুরুতেই উত্তরবঙ্গে নিজের ভয়ংকর রূপ দেখাতে শুরু করেছে প্রকৃতি। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের তিন জেলা— জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে হাওয়া অফিসের তরফে ইতিমধ্যেই এই জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে।
ফুঁসছে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা
টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড় ও সমতলের নদীগুলিতে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। হাওয়া অফিস এবং সেচ দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী, আগামী দু'দিন প্রবল বর্ষণের জেরে তিস্তা, তোর্সা এবং জলঢাকা নদীর জলস্তর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ে বৃষ্টি বাড়লে এই নদীগুলির জল ফুলেফেঁপে উঠে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
পাহাড় থেকে সমতলে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
পাশাপাশি, পাহাড়ের দুই জেলা— দার্জিলিং এবং কালিম্পঙেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে, এবং কোথাও কোথাও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?
উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট থাকলেও, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে এখনই একটানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করার কারণে দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের আগামী কয়েকদিন গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকলেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কারণে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
সতর্কতায় জেলা প্রশাসন
দুর্যোগের এই পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর তীরবর্তী এবং নিচু এলাকার (Low-lying areas) বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নদীর কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে নিচু এলাকার মানুষদের যাতে দ্রুত ফ্লাড শেল্টার বা সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখছে প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (SDRF/NDRF) যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন (19 June) থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) সক্রিয় হতে চলেছে। এর প্রভাবে উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলির পাশাপাশি পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লির বেশ কিছু অংশে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝাই উত্তর ভারতের চলমান তাপপ্রবাহ থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়ার খবর (FAQ)
প্রশ্ন: আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে উত্তরবঙ্গের কোন কোন জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে?
উত্তর: আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলা— জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
প্রশ্ন: প্রবল বৃষ্টির জেরে কোন নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?
উত্তর: অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তা, তোর্সা এবং জলঢাকা নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
প্রশ্ন: বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: নিচু এলাকা এবং নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে জেলা প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির আবহাওয়ার খবর, তাপপ্রবাহ এবং মেগা ওয়েদার আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!