মেয়ের জন্মদিনে পার্টি নয়, রক্তদান! জলপাইগুড়িতে চা বিক্রেতা বাবার অভিনব উদ্যোগে মুগ্ধ নেটপাড়া
নিজস্ব প্রতিবেদন, জলপাইগুড়ি: সন্তানের জন্মদিন মানেই কেক কাটা, দামি উপহার আর এলাহি খাওয়াদাওয়ার চল। কিন্তু এই তথাকথিত উদযাপনের পথে না হেঁটে সমাজের প্রতি এক অনন্য নজির গড়লেন জলপাইগুড়ির এক বাবা। ছোট মেয়ের ১৩তম জন্মদিনে সপরিবারে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন তিনি। তাঁর এই মানবিক ও অভিনব উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
১৩তম জন্মদিনে অভিনব উদযাপন
জলপাইগুড়ি শহরের ডাঙা পাড়ার বাসিন্দা রাজু দে পেশায় একজন সামান্য চা বিক্রেতা এবং তিনি একটি ছোট ভাতের হোটেল চালান। তাঁর দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর ছোট মেয়ে ঋষিকা দে-র ১৩তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এদিন সপরিবারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা জলপাইগুড়ি হাসপাতালে হাজির হন রাজু বাবু। মেয়ের সামনেই তিনি হাসিমুখে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বাবার এই মহৎ কাজে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ জুগিয়েছে ছোট্ট ঋষিকা এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও।
রক্তদানের পাশাপাশি দুঃস্থদের অন্নদান
শুধুমাত্র রক্তদান করেই থেমে থাকেননি এই চা বিক্রেতা। রক্তদান শেষে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি মন্দিরে যান তিনি। সেখানে পুজো দেওয়ার পর মন্দিরের বাইরে বসে থাকা গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেন রাজু বাবু। পেশায় একজন সামান্য হোটেল ব্যবসায়ী হয়েও সমাজের প্রতি তাঁর এই বিপুল দায়বদ্ধতা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনন্য নজির
বর্তমান সমাজে যখন লোকদেখানো উদযাপনের প্রতিযোগিতা চলে, তখন রাজু দে-র এই মানবিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তাঁর পরিবারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছে থাকলে সামান্য আয়েও সমাজের জন্য অনেক বড় কাজ করা যায়। সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশপ্রেমীরা তাঁর এই সামাজিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জলপাইগুড়িতে রক্তদান (FAQ)
প্রশ্ন: জলপাইগুড়িতে কে মেয়ের জন্মদিনে রক্তদান করেছেন?
উত্তর: জলপাইগুড়ির ডাঙা পাড়ার বাসিন্দা পেশায় চা ও হোটেল ব্যবসায়ী রাজু দে তাঁর ছোট মেয়ের ১৩তম জন্মদিনে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
প্রশ্ন: রক্তদান কর্মসূচিটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: রক্তদান কর্মসূচিটি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন: রক্তদান ছাড়া আর কী সামাজিক কাজ করেছেন ওই ব্যক্তি?
উত্তর: রক্তদানের পর স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন তিনি।