Siliguri Corridor: 'চিকেনস নেক' পাহারায় কড়া ভারত! ঢেলে সাজানো হচ্ছে হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটি
নিজস্ব প্রতিবেদন: চীনের চোখরাঙানির কড়া জবাব দিতে এবং পূর্ব ভারতের আকাশসীমা নিশ্ছিদ্র রাখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'শিলিগুড়ি করিডোর' (Siliguri Corridor) বা 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তা মজবুত করতে পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান বায়ুসেনা ঘাঁটি— হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডার সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির পরিকাঠামো বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে যুক্ত করে। মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার চওড়া এই সংকীর্ণ পথটি সামরিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ডোকলাম (Doklam) এবং তাওয়াংয়ে চীনের আগ্রাসী মনোভাবের পর এই করিডোরের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে চীন যাতে এই করিডোরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বা বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্যই এই আগাম প্রস্তুতি।
হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডা ঘাঁটির আধুনিকীকরণ
উত্তরবঙ্গের হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটি ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক ফরাসি যুদ্ধবিমান 'রাফাল' (Rafale)-এর দ্বিতীয় স্কোয়াড্রনের ঠিকানা। এবার এই ঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক হ্যাঙ্গার তৈরি এবং অতিরিক্ত অস্ত্র মজুত করার জন্য নতুন জমি দেওয়া হচ্ছে। হাসিমারা থেকে চীন সীমান্ত অত্যন্ত কাছে হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে অবস্থিত কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটিও পূর্ব ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এয়ারবেস। এই ঘাঁটিরও পরিকাঠামো বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে যুদ্ধের সময় বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত বড় কার্গো বিমান (C-17 Globemaster) এবং ফাইটার জেট ওঠানামা করতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তৎপরতা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, পূর্ব সীমান্ত বরাবর যেকোনো সামরিক আস্ফালন রুখতে ইস্টার্ন এয়ার কমান্ডকে (Eastern Air Command) ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অতিরিক্ত জমি পাওয়ার ফলে এই দুটি ঘাঁটিতে নতুন রাডার সিস্টেম, সারফেস-টু-এয়ার এয়ার ডিফেন্স মিসাইল (S-400 বা সমতুল্য) এবং অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা অনেক সহজ হবে।
রাজ্য বাজেটে কোচবিহার বিমানবন্দরের উন্নয়নে বড় সুখবর
শুধু সামরিক ঘাঁটিই নয়, উত্তরবঙ্গের অসামরিক বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রেও সুখবর মিলেছে। সদ্য পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটে কোচবিহার বিমানবন্দরের উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০৬৯ মিটার, যার ফলে এখন শুধুমাত্র ৯ আসনের ছোট বিমান ওঠানামা করতে পারে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় রানওয়ে বাড়িয়ে বড় বিমান নামানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রবল আশাবাদী কোচবিহারের বাসিন্দারা। রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি জেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিপুল উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এয়ারবেস সম্প্রসারণ ও করিডোর নিরাপত্তা (FAQ)
প্রশ্ন: হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গের কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় এবং কলাইকুণ্ডা এয়ারবেস দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত।
প্রশ্ন: শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক ভারতের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: শিলিগুড়ি করিডোর হলো একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ভূখণ্ড (২০-২২ কিমি চওড়া), যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে যুক্ত করে। চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে এই পথটিকে রক্ষা করা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন: বায়ুসেনা ঘাঁটি দুটি সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: পূর্ব ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা, রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের অবাধ গতিবিধি নিশ্চিত করা এবং শিলিগুড়ি করিডোরকে চীনের নজরদারি থেকে রক্ষা করতেই এই ঘাঁটিগুলির সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।