হাতি, বাইসনের পর এবার হরিণ! ডুয়ার্সে লোকো পাইলটদের তৎপরতায় ট্রেনের সামনে থেকে প্রাণে বাঁচল হরিণের দল

নিজস্ব প্রতিবেদন, মালবাজার: ডুয়ার্সের বনাঞ্চলের বুক চিরে যাওয়া রেলপথে বন্যপ্রাণীদের চলে আসা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে একাধিকবার ট্রেনের ধাক্কায় হাতি বা বাইসনের মৃত্যু যেমন সংবাদ শিরোনামে এসেছে, তেমনই রেল চালকদের তৎপরতায় বহুবার রক্ষা পেয়েছে এই বন্যপ্রাণীরা। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, তবে হাতি বা বাইসন নয়, চালক ও সহ-চালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে এবার প্রাণে বাঁচল বেশ কয়েকটি হরিণের একটি দল।

ডুয়ার্সে লোকো পাইলটদের তৎপরতায় ট্রেনের সামনে থেকে প্রাণে বাঁচল হরিণের দল, Dooars Chapramari Forest, Deer saved by Train Pilots, Siliguri Bamanhat Intercity Express
ডুয়ার্সে চালকদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল একপাল হরিণ (ছবি: AI)

কখন এবং কোথায় ঘটল এই ঘটনা?

বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের চালসা এবং নাগরাকাটার মধ্যবর্তী চাপরামারি বনাঞ্চল এলাকায়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫৪৬৭ শিলিগুড়ি-বামনহাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (Siliguri-Bamanhat Intercity Express) নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঘড়িতে তখন সকাল ৮টা বেজে ৪০ মিনিট। ট্রেনটি চাপরামারি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় লোকো পাইলটদের নজরে আসে রেললাইনে উঠে পড়া একদল বন্যপ্রাণী।

লোকো পাইলটদের উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতা

ট্রেনটি যখন রেলওয়ে ট্র্যাকের ৬৭/৬৮ কিলোমিটারের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন লোকো পাইলট অবধেশ কুমার এবং সহ-লোকো পাইলট মনোহর কুমার দূর থেকে লক্ষ্য করেন, বেশ কয়েকটি হরিণ রেললাইন পার হচ্ছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও তৎপরতার সঙ্গে তাঁরা দ্রুত ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেনটিকে নিরাপদ দূরত্বে থামিয়ে দেন।

চালকদের এই সময়োচিত পদক্ষেপে হরিণের দলটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে রেললাইন অতিক্রম করে জঙ্গলের গভীরে চলে যায়। এরপর ট্রেনটি তার স্বাভাবিক গতিতে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করে।

পরিবেশপ্রেমীদের প্রশংসা

এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবেশপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষকদের মধ্যে খুশির হাওয়া। ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণী বাঁচাতে ট্রেনের চালকদের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁরা।

ডুয়ার্সে হরিণ রক্ষা (FAQ)

প্রশ্ন: কোথায় হরিণের দল ট্রেনের সামনে চলে এসেছিল?

উত্তর: বুধবার সকালে ডুয়ার্সের চালসা ও নাগরাকাটার মধ্যবর্তী চাপরামারি বনাঞ্চল এলাকায় (রেলওয়ে ট্র্যাকের ৬৭/৬৮ কিলোমিটারের কাছে) এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রশ্ন: কোন ট্রেনের চালকরা হরিণদের প্রাণ বাঁচান?

উত্তর: ১৫৪৬৭ শিলিগুড়ি-বামনহাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের চালকরা এই প্রশংসনীয় কাজটি করেছেন।

প্রশ্ন: ওই দুই লোকো পাইলটের নাম কী?

উত্তর: ট্রেনের লোকো পাইলট অবধেশ কুমার এবং সহ-লোকো পাইলট মনোহর কুমারের তৎপরতায় হরিণের দলটি প্রাণে রক্ষা পায়।

সংশোধন ও অভিযোগ: এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল, কপিরাইট সমস্যা বা আপত্তিকর তথ্য থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের Corrections Policy অনুসরণ করে জানান।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

লোড হচ্ছে...

🔥 Trending News

Loading...