সাপের কামড়ে ৮ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ধূপগুড়িতে! চিকিৎসায় গাফিলতি নাকি বিষের তীব্রতা? উঠছে প্রশ্ন

অমিত বনিক, ধূপগুড়ি: সাপের কামড়ে এক আট বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি (Dhupguri) এলাকায়। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ির কালিরহাট সংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের দাবি, সাপের কামড়ের পর শিশুটি নিজেই হেঁটে হাসপাতালে ঢুকেছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে যথেষ্ট সুস্থও ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয় এবং মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।

ধূপগুড়িতে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, Dhupguri Snakebite Death, Kalirhat Dhupguri, Child Death
চিকিৎসায় গাফিলতি নাকি বিষের তীব্রতা? উঠছে প্রশ্ন

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে প্রতিদিনের মতো শিশুটির মা-বাবা ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। দুপুরে শিশুটি একাই ভাত বেড়ে মধ্যাহ্নভোজন সারে। খাওয়া শেষে কুয়োর পাড়ে এঁটো থালা রাখতে গেলে সেখানেই একটি বিষধর সাপ তাকে ছোবল মারে। আতঙ্কে শিশুটি চিৎকার করে ছুটে যায় পাশের কাকার বাড়িতে। তড়িঘড়ি পরিবারের সদস্যরা তাকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালে কী ঘটেছিল?

পরিবারের দাবি, শিশুটি যখন হাসপাতালে আসে, তখন সে নিজে হেঁটেই ভেতরে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক তাকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। কিন্তু জলপাইগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে ভয়াবহ পরিণতি

হাসপাতালে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি নিজের পেশেন্ট নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, তিনিও এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, "আমি যখন হাসপাতালে আসি, তখন বাচ্চাটি একটু সুস্থই ছিল, ভালোই ছিল। ওর মা ও কাকুও সেখানে ছিলেন। এরপর হঠাৎ বাচ্চাটি বমি করতে শুরু করে। বমি করার পর ওর মা মুখে জল দিচ্ছিলেন। জল দেওয়ার পরেই বাচ্চাটি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শুয়ে পড়ে। শুয়ে পড়ার পর সিস্টারদের ডাকা হয়। সিস্টাররা চিৎকার করে ডাক্তারকে ডাকেন। ডাক্তার এবং সিস্টাররা সবাই ছুটে আসেন। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আসার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই বাচ্চাটির মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা কালিরহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসায় গাফিলতি নাকি বিষের তীব্রতা, ঠিক কী কারণে এত দ্রুত শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ধূপগুড়িতে সর্পাঘাতে শিশুর মৃত্যু (FAQ)

প্রশ্ন: সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?

উত্তর: এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির কালিরহাট সংলগ্ন এলাকায়।

প্রশ্ন: কীভাবে শিশুটিকে সাপে কামড়ায়?

উত্তর: শিশুটির বাবা-মা কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় সে একাই দুপুরে খাওয়া দাওয়া করছিল। কুয়োর পাড়ে এঁটো থালা রাখতে গেলে সেখানেই একটি বিষধর সাপ তাকে ছোবল মারে।

প্রশ্ন: হাসপাতালে আসার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা কী দেখেছিলেন?

উত্তর: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাসপাতালে আসার পর প্রথমদিকে শিশুটি সুস্থ ছিল এবং হেঁটে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সে বমি করতে শুরু করে এবং অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

সংশোধন ও অভিযোগ: এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল, কপিরাইট সমস্যা বা আপত্তিকর তথ্য থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের Corrections Policy অনুসরণ করে জানান।

সাংবাদিক-অমিত বনিক

জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে যুক্ত। ২০২০ সাল থেকে তিনি সংবাদ একলব্যের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

editor@sangbadekalavya.in

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

লোড হচ্ছে...

🔥 Trending News

Loading...