হাতে-কলমে গণিত শিক্ষা! বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে থলে হাতে সোজা বাজারে হাজির ধূপগুড়ির খুদেরা
হাতে-কলমে গণিত শিক্ষা! বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে থলে হাতে সোজা বাজারে হাজির ধূপগুড়ির খুদেরা
নিজস্ব প্রতিবেদন, ধূপগুড়ি: অঙ্ক বা গণিত মানেই কি কেবল ক্লাসরুমের চার দেওয়ালের মধ্যে বসে বইয়ের পাতায় কাঠখোট্টা হিসাব কষা? এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ধূপগুড়ির শ্রী শ্রী নিত্যকমলানন্দ সারদা শিশু মন্দির (Dhupguri Sarada Shishu Mandir)। ছাত্রদের হাতে-কলমে গণিতের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে এবং বাস্তব জীবনে অঙ্কের প্রয়োগ শেখাতে তাদের সোজা নিয়ে যাওয়া হলো স্থানীয় বাজারে।
বিদ্যালয়ের বাসে চেপে একরাশ উৎসাহ নিয়ে স্থানীয় বাজারে এসে পৌঁছায় খুদে পড়ুয়ারা। এরপর দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। ছাত্রদের হাতে রয়েছে বাজারের থলে এবং খাতা-পেন। নিজেরাই ঘুরে ঘুরে আলু, পটল, টমেটো, কাঁচা লঙ্কা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সবজি কেনাকাটা করল তারা।
দোকানিদের কাছ থেকে দরদাম জেনে, হিসাব করে টাকা দেওয়া এবং বাকি টাকা বুঝে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি তারা নিজেরাই সম্পন্ন করে। শুধু তাই নয়, কোন সবজি কত দামে কেনা হলো, তার নিখুঁত হিসাবও সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে ফেলে ছাত্ররা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, বইয়ের পাতায় যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের অঙ্ক শেখার পাশাপাশি তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে শেখাটা অত্যন্ত জরুরি। বাজারের এই অভিজ্ঞতার ফলে ছাত্ররা যেমন টাকা-পয়সার লেনদেন সম্পর্কে শিখতে পারল, তেমনই ওজনের হিসাব (কিলোগ্রাম, গ্রাম) সম্পর্কেও তাদের বাস্তব ধারণা তৈরি হলো।
প্রথমবার এমন 'গণিত বাজার' উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এখন থেকে প্রতি বছর এমন উদ্যোগ নিতে চান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য অভিজিৎ শংকর দত্ত জানিয়েছেন, "বাজার থেকে ফিরে এসে ছাত্রদের কাছ থেকে যা ফিডব্যাক পেয়েছি তাতে আমরা অত্যন্ত খুশি। গণিত বইয়ের বাস্তব প্রয়োগ করতে পেরে ছাত্ররা অনেকটাই উপকৃত। আগামীতেও এই শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।"
এমন অভিনব অভিজ্ঞতা পেয়ে ভীষণ খুশি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। আয়ুষি ঘোষ, সোনাক্ষী রায় প্রধান, মায়াঙ্ক রহমানরা জানিয়েছে— ক্লাসরুমের বাইরে এসে বন্ধুদের সাথে বাজার করার এই অভিজ্ঞতা তারা বেশ উপভোগ করেছে।
অন্যদিকে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের থলে হাতে এমন পাকা গৃহস্থের মতো বাজার করতে এবং খাতায় হিসাব কষতে দেখে অবাক হয়ে যান বাজারে উপস্থিত থাকা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিদ্যালয়ের এই শিক্ষামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সকলেই।