সঞ্জিত কুড়ি, পূর্ব বর্ধমান: শোরুম থেকে চকমকে নতুন গাড়ি কিনে বাড়ি ফিরেছিলেন ক্রেতা। কিন্তু কয়েকদিন যেতেই জানতে পারলেন, নতুন নয়, আসলে তাঁকে গছিয়ে দেওয়া হয়েছে এক পুরোনো গাড়ি! এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠল বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার 'ব্রাইট টিভিএস' (Bright TVS) শোরুমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার নবাবহাট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত প্রতারণা ফাঁস হতেই স্থানীয়দের বিক্ষোভ এবং চাপের মুখে পড়ে ক্রেতাকে গাড়ির সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দিতে বাধ্য হয় শোরুম কর্তৃপক্ষ।
খাতায় সই করাতে গিয়েই বাড়ল সন্দেহ
জানা গেছে, গত রবিবার নবাবহাটের ব্রাইট টিভিএস শোরুম থেকে একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন শম্ভুনাথ কর্মকার নামে এক ব্যক্তি। গাড়ি কেনার পর সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। হঠাৎ করেই শোরুমের কিছু কর্মী শম্ভুনাথ বাবুর বাড়ি গিয়ে হাজির হন। তাঁরা দাবি করেন, কাগজের কিছু লেখালিখিতে ভুল হয়েছে। তাই বর্ধমান আদালত চত্বরে আরটিও (RTO) অফিসের ৬ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে একটি সই করে যেন তিনি গাড়ির কাগজপত্র সংগ্রহ করে নেন।
শোরুম কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক অনুরোধেই সন্দেহ দানা বাঁধে শম্ভুনাথ কর্মকারের মনে। আরটিও অফিসে গিয়ে সই করার বিষয়ে খটকা লাগায় তিনি তড়িঘড়ি স্থানীয় একটি গ্যারেজ এবং একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন। গাড়ির সমস্ত নথি ও নম্বর খতিয়ে দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁর! জানা যায়, যে গাড়িটি তাঁকে 'নতুন' বলে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আসলে আগেই অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি হয়েছিল।
শোরুমে বিক্ষোভ, ভুল স্বীকার কর্তৃপক্ষের
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আজ রবিবার শম্ভুনাথ বাবু সপরিবারে নবাবহাটের ওই ব্রাইট টিভিএস শোরুমে গিয়ে হাজির হন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির কৈফিয়ত চান। প্রথম দিকে শোরুমের ম্যানেজার ও আধিকারিকেরা বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দায় ঝেড়ে ফেলার নাটক করেন। কিন্তু শম্ভুনাথ বাবু আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলে এবং স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পিছু হটে শোরুম কর্তৃপক্ষ।
তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে নিজেদের ‘ভুল’ বা কারচুপি স্বীকার করতে বাধ্য হন শোরুমের কর্তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি শম্ভুনাথ কর্মকারকে গাড়ির পুরো মূল্য বাবদ সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে দেয় শোরুম কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে শোরুম কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
টাকা ফেরত পেয়ে ক্রেতা শান্ত হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবাবহাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি নামী সংস্থার শোরুম থেকে কীভাবে এই ধরণের প্রতারণা চক্র চলছে এবং এর পেছনে বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।
শোরুমের প্রতারণা সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)
প্রশ্ন: বর্ধমানে টিভিএস শোরুমের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: নতুন গাড়ির দামে পুরোনো বাইক গছিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে শোরুম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন: কোন শোরুমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ?
উত্তর: পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার 'ব্রাইট টিভিএস' (Bright TVS) শোরুমের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন: অভিযোগকারীর নাম কী এবং তিনি কীভাবে টাকা ফেরত পেলেন?
উত্তর: অভিযোগকারী ক্রেতার নাম শম্ভুনাথ কর্মকার। আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ও স্থানীয়দের তুমুল বিক্ষোভের জেরে চাপের মুখে পড়ে শোরুম কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়।
পূর্ব বর্ধমান জেলার লেটেস্ট ক্রাইম রিপোর্ট এবং স্থানীয় সমস্ত গ্রাউন্ড জিরো খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!