![]() |
নিজস্ব প্রতিবেদন: রবিবার মাঝরাতে আচমকা কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূটানের (Bhutan) পুনাখা জেলার নিকটবর্তী অঞ্চলে রবিবার রাতে ৫.৩ মাত্রার একটি জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পুনাখা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১১টা ০৬ মিনিট নাগাদ এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। মাঝরাতে এই ভূমিকম্পের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাঁপল ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর প্রভাব শুধু ভূটানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিবেশী দেশ ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং চীনের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতে বিশেষ করে নিম্নলিখিত এলাকাগুলোতে কয়েক সেকেন্ড ধরে ভূকম্পন অনুভব করেছেন বাসিন্দারা:
- উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ অংশে।
- সিকিম: পাহাড়ি এই রাজ্যে কম্পনের মাত্রা বেশি অনুভূত হয়েছে।
- আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারত: আসাম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে কম্পন টের পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ক্ষয়ক্ষতি ও আফটারশক সতর্কতা
এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর থেকে বাইরে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভূমিকম্পের পর আফটারশকের (Aftershocks) সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগামী কয়েক ঘণ্টা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলে কেন এত ঘনঘন ভূমিকম্প?
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূটান ও সমগ্র হিমালয় অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা (Seismic Zone)। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলেই এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প ঘটে থাকে। অতীতেও ভূটান, নেপাল ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরেও হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে একাধিক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের অত্যধিক ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তারই ইঙ্গিত বহন করে।
ভূমিকম্প সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)
প্রশ্ন ১: ভূমিকম্পটির মাত্রা কত ছিল?
উত্তর: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটির মাত্রা (Magnitude) ছিল ৫.৩ রিখটার স্কেল।
প্রশ্ন ২: ভূমিকম্পের কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উত্তর: ভূমিকম্পের উৎসস্থল বা কেন্দ্র ছিল ভূটানের পুনাখা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে।
প্রশ্ন ৩: কোন কোন দেশে কম্পন অনুভূত হয়েছে?
উত্তর: মূল কেন্দ্র ভূটানে হলেও, প্রতিবেশী ভারত (উত্তরবঙ্গ, সিকিম, আসাম), বাংলাদেশ, নেপাল এবং চীনের কিছু অংশে এর কম্পন অনুভূত হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর আছে কি?
উত্তর: প্রাথমিক প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন ৫: আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের পর সাধারণত আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে।
যেকোনো ব্রেকিং নিউজ, আন্তর্জাতিক খবর এবং আবহাওয়া ও দুর্যোগের লেটেস্ট আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
