নিজস্ব প্রতিবেদন, মধ্যমগ্রাম, সংবাদ একলব্য: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ঐতিহাসিক জয়ের পর নবান্ন দখলের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবরে কেঁপে উঠল রাজ্য রাজনীতি। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে (Madhyamgram) প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে খুন হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথ। এই ভয়াবহ শ্যুটআউটের (Shootout) ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও। ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে এমন হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্যে চূড়ান্ত চাঞ্চল্য ও তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে ঘটল এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে কাজ সেরে একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে (Scorpio Car) করে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথবাবু। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকার কাছে পৌঁছালে পিছন থেকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁদের গাড়িটিকে অনুসরণ করতে থাকা একটি বাইক আচমকাই গাড়ির পথ আটকায়। অভিযোগ, এরপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ (Point Blank Range) থেকে গাড়ির বাঁ-দিকে সামনের সিটে বসে থাকা চন্দ্রনাথবাবুকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হন গাড়ির চালকও। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চালক বুদ্ধদেব বেরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কে এই চন্দ্রনাথ রথ?
১৯৮৪ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে জন্মগ্রহণ করা চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী (Close Aide)। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) যোগ দেন। টানা ১৮ বছর বায়ুসেনায় চাকরির পর স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালীন জলসম্পদ দপ্তরের আপ্তসহায়ক হিসেবে চন্দ্রনাথবাবুর পথচলা শুরু। ২০২০ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে তিনিও তাঁর সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে আসেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিজেপি সরকারে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের (CMO) কোনো বড় দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল তাঁরই।
হাসপাতালে শুভেন্দু, তদন্তে নামল পুলিশ
এই মর্মান্তিক খবর পেয়েই রাত বারোটার পর মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে ছুটে যান খোদ শুভেন্দু অধিকারী। গভীর রাতেই সেখানে পৌঁছান বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও নবনির্বাচিত বিধায়ক। হাসপাতাল চত্বর থেকে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে 'পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন' (Pre-planned Murder) বলে আখ্যা দেন। তবে এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও তিনি দলের কর্মীদের আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার এবং শান্তি বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে, নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের (Political Conspiracy) অভিযোগ তুলেছেন।
খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত (DGP Siddhanath Gupta)। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য নিহত চন্দ্রনাথ রথের মৃতদেহ বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিজেপির বিপুল জয়ের আবহে শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গীর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে, ক্ষমতা বদল হলেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (Law and Order) এখনও কতটা উদ্বেগজনক জায়গায় রয়েছে।
রাজ্য রাজনীতি এবং ক্রাইম নিউজের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ