সুরশ্রী ব্যানার্জী, কলকাতা: পশু হত্যা নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার পর জল গড়ায় হাইকোর্টে। বকরি ঈদের প্রাক্কালে কলকাতা হাইকোর্ট মুসলমান ধর্মাচরণ এবং ঈদের ধর্মীয় রীতি নীতির সাথে গোহত্যা বা গোমাংস ভক্ষণের কোন সম্পর্ক নেই বলেই উল্লেখ করে। কিন্তু গরু কেনা বেচার বিষয়ে এবং গো মাংস বিক্রির পক্ষে কথা বলতে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলেই অভিযোগ। এরই মধ্যে গোসম্পদকে সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তার সরকারের নেওয়া কর্মসূচিকে সার্বিক সমর্থন জানালো ভারতের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
শুভেন্দু সরকারের গো-সংরক্ষণ নীতিকে হিন্দু মহাসভার সমর্থন
এরই মধ্যে গো-সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সরকারের নেওয়া কর্মসূচিকে সার্বিক সমর্থন জানালো ভারতের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান 'অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা'। রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই পঁচিশ জন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপাল আর.এন. রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিফ সেক্রেটারির কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে। হিন্দু মহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা নাখোদা মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা মহম্মদ সাফিক কাসমির সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও বিক্ষোভ
কিন্তু এরপর আজ তারা বখরি ঈদের প্রাক্কালে ধর্মতলা চত্বরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, "স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং গোমাতাকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করার জন্য আন্দোলন করে আসছে। আমাদের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই ১৯৫০ সালে গো-সংরক্ষণ বিষয়ে সরকারি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যতগুলো সরকার এসেছে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম মৌলবাদকে তোষণ করেছে এবং হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। কিন্তু আজ ভারতের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় যেভাবে গোমাতাকে সংরক্ষণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, তাকে আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি। বুকের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
তৃণমূল কংগ্রেসকে 'জিহাদী ও মুসলিম মৌলবাদ तोষণকারী দল' বলে আক্রমণ করে চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, "আমরা বিস্মিত যে বিতর্কিত সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলছেন গরু কোরবানি করতে দিতেই হবে, কারণ এটা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার। কিন্তু আসলে কোরআন বা হাদিসের কোথাও গোহত্যার কথা বলা নেই।" তাঁর দাবি, হিন্দুদের দেবাদিদেব মহাদেব বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোমাতা পূজিত হন বলেই, একটি অংশের মৌলবাদীরা হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্দেশ্যে গোহত্যা করে।
হিন্দু মহাসভার অভিযোগ, মহুয়া মৈত্র নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধিতা করে আসলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন। ডক্টর গোস্বামী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করলাম। এরপর মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আগামী দিনে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে এগোতে বাধ্য হবো।"
আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ও থানায় অভিযোগ দায়ের করার সময় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রীতম বালা, অন্তরা মিত্র, অভিষেক বোস, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য্য, রিষা বসাক, মিন্টু ঘোষ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব।
দেশ, রাজ্য ও রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): 'সংবাদ একলব্য' সর্বদা সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে বদ্ধপরিকর। প্রকাশিত খবরের সমস্ত তথ্য ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নিজস্ব।
সাংবাদিক - সুরশ্রী ব্যানার্জী
সাংবাদিক সুরশ্রী ব্যানার্জীর গণমাধ্যম জগতে রয়েছে দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা। সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সুরশ্রী প্রিন্ট এবং ডিজিটাল—উভয় মিডিয়াতেই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। দেশ থেকে বিদেশের আনাচে-কানাচে ঘটে চলা নিত্যনতুন খবরের গভীরে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার এবং শেখার অবিরাম চেষ্টাই তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের মূল চালিকাশক্তি।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ