কলকাতা, সংবাদ একলব্য: রাজ্যে নির্বাচন মেটার পরেই ভোট গণনার প্রস্তুতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। গণনাকেন্দ্রের করিডরে ব্যালট পেপার বাছাই করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অবশেষে মুখ খুলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর।
ঘটনার সূত্রপাত
অভিযোগ ওঠে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে করিডরে ব্যালট পেপার নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হতেই সক্রিয় হয় কমিশন।
কমিশনের ব্যাখ্যা
সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যে ব্যালটগুলি করিডরে দেখা গিয়েছে, সেগুলি মূলত পোস্টাল ব্যালট এবং নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফর্মের 'সেগ্রিগেশন' বা আলাদা করার কাজ চলছিল। কমিশনের জানায়, নির্বাচন বিধি মেনেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। করিডরে যে ব্যালটগুলি ছিল, সেগুলি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই বাছাই করা হচ্ছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছে। কমিশন জানায়, ‘‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’
সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মমতার উপস্থিতি নিয়ে কমিশন
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। সেখানে যান কলকাতা বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমও। স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। সেই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী ওই স্ট্রংরুমে যে সাতটি আসনের ইভিএম রয়েছে, শুধু সেখানকার প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরাই যেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের প্রার্থী। তিনি উত্তর কলকাতার ওই সাতটি আসনের কোনওটিতেই প্রার্থী নন। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে যেখানে স্ট্রংরুম, সেখানে তিনি যেতে পারেন। ওখানে গিয়েছেন উনি। এখানে (সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে) উনি আসতে পারবেন না।’’
সিইও আরও বলেন, ‘‘এখানে গন্ডগোলের কোনও সুযোগ নেই। আগামী কাল থেকে গণনা কেন্দ্রগুলিতে যাচ্ছি। সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জন্য একটি প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের সার্টিফিকেট দিতে হবে যে, কমিশনের আইন ও নিয়ম মেনে গণনা কেন্দ্রগুলিতে বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রে ১৬৩ ধারা জারি করা হবে। স্ট্রংরুমে যথেষ্ট নিরাপত্তা রয়েছে। যা হচ্ছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’
নিরাপত্তা জোরদার:
বিতর্ক এড়াতে এবং গণনার আগে জনমানসে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রং রুমের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ভোটের ফল প্রকাশের আগে এই ধরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
0 মন্তব্যসমূহ