কলকাতা, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে জট কিছুতেই যেন কাটছে না। সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকার পর বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এবার সেই হিসাব নিকাশে ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে নামলেন আদালত কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতির ডাকে গত ৩১ মার্চ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও বঞ্চনার অভিযোগ
সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আদালত কর্মীরা রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী সঠিক হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক বা এআইসিপিআই (AICPI)-এর ভিত্তিতে ডিএ নির্ধারণের কথা। কিন্তু বাস্তবে রাজ্য সরকারের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালে প্রস্তুত করা হিসাবে একাধিক মারাত্মক ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কর্মচারীদের যে পদোন্নতি হয়েছে এবং সংশোধিত বা উন্নীত বেতন কাঠামোর যে প্রভাব রয়েছে, তা হিসাবের মধ্যে আদৌ প্রতিফলিত হয়নি। বহু ক্ষেত্রে মাসভিত্তিক সঠিক হিসাবও করা হয়নি, যার ফলে কর্মচারীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
প্রশাসনিক জটিলতা ও এইচআরএমএস পোর্টালের ত্রুটি
সমিতির দাবি, গত ১৩ মার্চ (২০২৬) অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী বকেয়া ডিএ নির্ধারণ ও তা দুই কিস্তিতে প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এইচআরএমএস-এ যে হিসাব তৈরি হচ্ছে, তা ওই নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া ১৩ মার্চের সরকারি নির্দেশিকায় ডিএ বা ডিআর হারের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে পোর্টালে প্রস্তুত এরিয়ার বিবরণী বা স্টেটমেন্টগুলোর 'নন-এডিটেবল' (অ-সম্পাদনযোগ্য) অবস্থা। অর্থাৎ, হিসাবে ভুল থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা (DDO) তা সংশোধন করতে পারছেন না, যা প্রশাসনিক জটিলতাকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
তারিখ বদল ঘিরে বিতর্ক
অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢেলেছে সিস্টেম জেনারেটেড টি.আর.৪৭ (TR 47) ফর্মে হঠাৎ করে 'পরিশোধযোগ্য তারিখ' বদলের ঘটনা। অভিযোগ, প্রথমে এই ফর্মে ১ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও, পরে তা পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল ২০২৬ করা হয়। এছাড়া সরকারি আদেশনামাগুলি পিছনের তারিখে (Backdated) জারি হলেও, তা দেরিতে প্রকাশ হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে কর্মচারী সমিতি।
কী বলছেন সংগঠনের নেতৃত্ব?
আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। তাই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে আদালতের টিফিন ব্রেকেই স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ সংগঠিত করা হচ্ছে।
সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী বিনয় হালদার এ প্রসঙ্গে জানান, “এইচআরএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রস্তুত ডিএ এরিয়ার হিসাব ও প্রদানে গুরুতর অসংগতি রয়েছে, যার ফলে কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে এই ত্রুটিগুলির সংশোধন করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তি বছর সরকার নিজের ইচ্ছেমতো বদলাতে পারে না; রোপা নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ভিত্তিই অনুসরণ করতে হবে। অবিলম্বে পোর্টালের ত্রুটি সংশোধন করে সঠিক হিসাব সুনিশ্চিত করা এবং প্রাপ্য অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতি।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ আপডেট এবং ব্রেকিং খবরের জন্য চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ