দিনহাটা, সংবাদ একলব্য: কোচবিহারের দিনহাটায় PGBT কলেজ মাঠে আয়োজিত বিজেপির 'বিজয় সংকল্প সভা' থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং স্থানীয় বিধায়ককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য নেতা শমীক ভট্টাচার্য্য। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, কর্মসংস্থানহীনতা এবং উত্তরবঙ্গের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি।
রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দলবদলু নেতাদের কটাক্ষ
বক্তব্যের শুরুতেই শমীক ভট্টাচার্য্য দিনহাটার রাজনৈতিক চেতনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি নাম না করে স্থানীয় বিধায়ক উদয়ন গুহর একসময় বামফ্রন্টে থাকা এবং পরবর্তীতে রাতারাতি তৃণমূলে যোগদানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তৃণমূল দিনহাটায় বিরোধীদের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছে। তাঁর কথায়, "এই নির্বাচন শুধু বিজেপি বনাম তৃণমূলের নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন আপামর জনসাধারণ বনাম তৃণমূলের নির্বাচন।"
মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা ও দিঘায় জগন্নাথ ধাম প্রসঙ্গ
রাজ্যে গণতন্ত্রের অভাব এবং দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, দুর্নীতির কারণে কালীঘাটের মা কালী মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী এখন দিঘায় জগন্নাথ দেবের শরণাপন্ন হয়েছেন। সরকারি টাকায় সরাসরি মন্দির নির্মাণ করা যায় না বলেই তিনি 'কালচারাল সেন্টার'-এর নাম করে আসলে মানুষের টাকা দিয়ে রাজনীতির বৈতরণী পার হতে চাইছেন।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু
সংখ্যালঘুদের অবস্থার কথা তুলে ধরে শমীক ভট্টাচার্য্য প্রশ্ন তোলেন, গত ১৫ বছরে বাংলার সংখ্যালঘু যুবকদের বাস্তবে কী উন্নতি হয়েছে? কাজের সন্ধানে তাঁদের কেন সুরাট, আমেদাবাদ, ইন্দোর বা রাজস্থানের মতো অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে ছুটে যেতে হচ্ছে? রাজ্যে ৭৯ হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এবার সেই শ্রমিকরাই হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে স্পেশাল ট্রেন বুক করে রাজ্যে ফিরে আসছেন ভোটবাক্সে শাসকদলকে জবাব দেওয়ার জন্য।
উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা ও বীর চিলারায় প্রসঙ্গ
'উত্তরকন্যা' তৈরির পরেও উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দ টাকার সঠিক ব্যবহার তো হয়ই না, উলটে সেই ফান্ডের টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজ্যের পাঠ্যক্রমে কোচবিহারের শৌর্যবীর্যের প্রতীক 'বীর চিলারায়'-এর ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত না করার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। অসমের পাঠ্যক্রমে বীর চিলারায় থাকলেও, বাংলার পাঠ্যপুস্তকে তাঁকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
'২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন'
বক্তব্যের শেষ পর্বে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "সাগর থেকে পাহাড় একটাই আওয়াজ— ২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন।" মে মাসের পর এই সরকারের পতন নিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন। অবশেষে দিনহাটার সাধারণ মানুষ এবং বিজেপি কর্মীদের কাছে তিনি তরুণ প্রার্থী অজয় রায়কে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে রাজ্যে পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানান।
শমীক ভট্টাচার্য্যের সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনুন:
কোচবিহার জেলার রাজনীতি এবং বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ