নয়াদিল্লি, সংবাদ একলব্য: মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) ইস্যুতে উত্তাল সংসদের বিশেষ অধিবেশন। দীর্ঘ এবং উত্তপ্ত বিতর্কের পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) লোকসভায় পেশ করা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ২০২৬ পর্যাপ্ত সমর্থনের অভাবে পাস হতে ব্যর্থ হলো। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে মোট ২৯৮ জন সাংসদ ভোট দেন এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটি লোকসভায় আটকে যায়।
অমিত শাহের কড়া বার্তা ও কংগ্রেসকে আক্রমণ
এদিন লোকসভায় বিলটির উপর আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের, বিশেষত 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভারতীয় সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের কোনো সংস্থান নেই। বিরোধীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম সংরক্ষণের দাবি তুলছে।
কংগ্রেসকে দেশের 'সবচেয়ে বড় ওবিসি-বিরোধী দল' আখ্যা দিয়ে শাহ বলেন, "মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ থেকে শুরু করে ওবিসি সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই কংগ্রেস বাধা সৃষ্টি করেছে।" ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মূল লক্ষ্য যে নারী ক্ষমতায়ন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বিরোধীরা নারীশক্তির এই উত্থানে বাধা দিচ্ছে, যার জবাব দেশের মা-বোনেরা আগামী নির্বাচনে কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দেবেন। এছাড়া, আলোচনা চলাকালীন তিনি প্রয়োজনে লোকসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সংশোধনী বিল আনার প্রস্তাবও দেন।
রাহুল গান্ধীর ভাষণ ও কঙ্গনা রানাউতের কটাক্ষ
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণ ঘিরেও এদিন তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে করা রাহুলের বেশ কিছু মন্তব্য নিয়ে সরকার পক্ষ আপত্তি তোলে। এরপরই স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলের ভাষণের বেশ কিছু শব্দ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন।
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত রাহুল গান্ধীর ভাষণকে 'মাথাব্যথা' বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধীকে শোনা এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। তিনি সংসদের মতো জায়গাকে ছেলেখেলায় পরিণত করেছেন।"
কংগ্রেসের অতীত টেনে নিশিকান্ত দুবের তোপ
মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিতর্কে অংশ নিয়ে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কংগ্রেস এবং সোনিয়া গান্ধীকেও তীব্র আক্রমণ করেন। ১৯৮৭ সালের ঠিক এই দিনের (১৭ এপ্রিল) কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা বোফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। পাশাপাশি, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সীতারাম কেশরীকে কীভাবে অপমানজনকভাবে সরিয়ে সোনিয়া গান্ধী দলের রাশ হাতে নিয়েছিলেন, সেই ইতিহাসও লোকসভায় তুলে ধরেন এই বিজেপি নেতা।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন ইস্যুতে লোকসভার এই ভোটাভুটি এবং বিল আটকে যাওয়ার ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
জাতীয় রাজনীতি এবং সংসদের প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ