মধুসূদন রায়, জলপাইগুড়ি, সংবাদ একলব্য: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ভাঙন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন বা জিসিপিএ (GCPA)-তে। সংগঠনের দীর্ঘদিনের মুখ এবং সাধারণ সম্পাদক বংশীবদন বর্মন বিজেপিতে যোগদান করায় তাঁর জায়গায় নতুন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিমল বর্মনকে, এমনটাই জানিয়েছেন নয়া সাধারন সম্পাদক পরিমল বর্মন।
বিজেপিতে যোগদান ঘিরেই ভাঙন
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির ঢ্যাং কালি এলাকায় আয়োজিত জিসিপিএ-র এক কর্মী সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বংশীবদন বর্মনের বিজেপিতে যোগদানের তীব্র নিন্দা করেন এবং এটিকে সংগঠনের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন।
সভায় উপস্থিত জিসিপিএ-র নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পরিমল বর্মন সংবাদ একলব্যকে জানান, বংশীবদন বর্মন এবং আরও দুই নেতা গিরিজা শংকর রায় ও আশুতোষ বর্মা সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এমনকি, গিরিজা শংকর রায় ও আশুতোষ বর্মা বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, "আমরা গত শনিবার জলপাইগুড়ি জেলার কর্মী সভা করেছিলাম। সেখানে বংশীবদন বর্মন, গিরিজা শংকর রায় এবং আশুতোষ বর্মা— এঁরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। বিজেপির প্রতীকে তাঁরা প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। এর অর্থ হলো, তাঁরা জিসিপিএ ছেড়ে চলে গেছেন। আমার কথাটা আজ সত্য বলে প্রমাণিত হলো।"
একতরফা সিদ্ধান্তে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ
পরিমল বর্মনের দাবি, বংশীবদন বর্মনের এই একতরফা সিদ্ধান্তে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং মালদা— উত্তরবঙ্গের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিমল বর্মন বলেন, "জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা এবং দার্জিলিং— এই সমস্ত জেলার যে ডিস্ট্রিক্ট কমিটিগুলো আমাদের সাথে আছে, তাদের নিয়ে আমরা কর্মী সভা করতে চলেছি। আজ জলপাইগুড়িতে শুরু করলাম। আমাদের সাথে যে কর্মীরা আছেন, তাঁদের নিয়ে আমাদের সংগঠনের যে নীতি-আদর্শ এবং আগামী দিনে আমাদের কী কর্মসূচি হবে, সেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। যাতে আমরা সবাই মিলে এক থাকতে পারি এবং আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।"
নতুন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে পরিমল বর্মন
সংগঠনের কর্মীরা জানিয়েছেন, পরিমল বর্মন সংগঠনের একজন পরিচিত মুখ এবং বিভিন্ন জেলায় সংগঠন বিস্তারে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই সংগঠন নতুনভাবে শক্তি সঞ্চয় করবে বলে আশাবাদী জিসিপিএ নেতৃত্ব।
আগামী দিনে GCPA-এর রাজনৈতিক অবস্থান
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জিসিপিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে পরিমল বর্মন বলেন, "আমরা আপাতত নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছি। পরবর্তীতে আমাদের সেন্ট্রাল কমিটি এবং এক্সিকিউটিভ কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবে যে কী করা যায়।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় বিজেপির অন্দরেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, এতদিন বংশীবদন বর্মনের নেতৃত্বেই সংগঠনটি সুসংগঠিত ছিল এবং তাঁর সমর্থকরাই ছিল মূল শক্তি। এখন সেই সমর্থন ভেঙে পড়লে এবং জিসিপিএ নতুন নেতৃত্বে সংগঠিত হলে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বংশীবদন বর্মনকে ছাড়া জিসিপিএ তাদের সাংগঠনিক শক্তি কতটা ধরে রাখতে পারে।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ