টোকিও, সংবাদ একলব্য: জামাকাপড় কাচার জন্য ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার তো প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা যায়। কিন্তু যদি এমন কোনও মেশিনের কথা বলা হয়, যা মানুষের শরীর পরিষ্কার করবে? হ্যাঁ, কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে জাপান। মানুষের জন্য তৈরি এই 'হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন' (Human Washing Machine) মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে কাউকে বিন্দু মাত্র স্পর্শ না করেই সম্পূর্ণ শরীর পরিষ্কার করে দেবে। শুধু তাই নয়, এটি শরীর ও মনকে সম্পূর্ণ রিল্যাক্স বা চিন্তামুক্ত করতেও সক্ষম।
মেশিনের উদ্ভাবন ও চোখ ধাঁধানো দাম
ওসাকায় অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২৫'-এ প্রথমবার এই মেশিনের প্রদর্শনী করা হয়, যা গোটা বিশ্বের নজর কাড়ে। জাপানি টেক কোম্পানি 'সায়েন্স' (Science) এই যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছে। বাইরে থেকে একটি বড় ক্যাপসুলের মতো দেখতে এই বিশেষ মেশিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন (যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.৫২ কোটি টাকার সমান)।
কোথায় মিলবে এই অভিজ্ঞতা ও খরচ কত?
এই 'ফিউচার হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন'-এর প্রথম ইউনিটটি কিনেছে জাপানের 'এস কন ফিল্ড হোক্কাইডো হোটেল'। কেউ যদি এই মেশিনে স্নান করার অভিজ্ঞতা নিতে চান, তবে এই হোটেলে গিয়ে তা উপভোগ করতে পারেন। তবে এর জন্য পকেট থেকে বেশ ভালোই খরচ করতে হবে। এখানে ১৫ মিনিটের একটি সেশনের মূল্য রাখা হয়েছে ১২ হাজার ইয়েন (প্রায় ৭,০০০ টাকা)। মেশিনের ভেতরে স্নান করার জন্য সুইমসুট পরা বাধ্যতামূলক।
কীভাবে কাজ করে এই 'হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন'?
এই মেশিনে স্নান করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং আরামদায়ক:
- প্রথমে ব্যবহারকারীকে ২.৩ মিটার লম্বা একটি বদ্ধ পড বা ক্যাপসুলের ভেতরে শুয়ে পড়তে হয়।
- এরপর মেশিনটি আল্ট্রা-ফাইন 'মাইক্রোবাবলস' (Microbubbles) এবং হালকা গরম বাষ্প দিয়ে সারা শরীর পরিষ্কার করতে শুরু করে।
- এখানে হাত দিয়ে শরীর ঘষার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না। মেশিনের এই ক্ষুদ্র বুদবুদগুলো ত্বকের রোমকূপের গভীরে প্রবেশ করে সমস্ত ময়লা পরিষ্কার করে দেয়।
- স্নান শেষে মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর শুকিয়েও দেয়।
শুধু স্নান নয়, স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে
এই মেশিন শুধু শরীর পরিষ্কারই করে না, বরং ব্যবহারকারীকে মানসিকভাবেও রিল্যাক্স করে। জাপানের ঐতিহ্যবাহী 'তোতোনোই' (Totonoi) ওয়েলনেস রুটিন মেনে, স্নান করার সময় ক্যাপসুলের ভেতরে শান্ত মিউজিক এবং ভিডিও চলতে থাকে। এছাড়া এতে থাকা সেন্সরগুলি হার্ট রেট ট্র্যাক করে এবং স্নায়ুর রিল্যাক্সেশন লেভেলের রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণ করে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
মেশিনটির নির্মাতা কোম্পানি 'সায়েন্স'-এর চেয়ারম্যান ইয়াসুয়াকি আওয়ামা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ সুস্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্যের সঙ্গে বাঁচতে পারে। যেহেতু এটি একদমই নতুন এবং মহার্ঘ্য প্রযুক্তি, তাই কোম্পানি আপাতত মাত্র ৫০টি এমন মেশিন তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রযুক্তির দুনিয়ায় জাপানের এই অনন্য আবিষ্কার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে আগামী দিনে মানুষের জীবনযাত্রা কতটা আরামদায়ক এবং স্বয়ংক্রিয় হতে চলেছে।
প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস দুনিয়ার সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ