কলকাতা, ১০ এপ্রিল, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (Grant-in-Aid) প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ভাতা রিলিফ (DR) মেটানোর বিষয়ে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের অর্থ দপ্তর (Finance Department)। বকেয়া ডিএ কীভাবে মেটানো হবে, তার 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' বা এসওপি (SOP) এখনও জমা না দেওয়ায় স্কুল শিক্ষা দপ্তর-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলিকে ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিল নবান্ন।
প্রেক্ষাপট ও নতুন নির্দেশিকা
ROPA-2009 সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে গত ১৩ মার্চ ২০২৬ (Memo No. 998-F(P2)) অর্থ দপ্তর একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তর এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া ডিএ ঠিক কোন পদ্ধতিতে মিটিয়ে দেওয়া হবে, তার একটি নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি দ্রুত অর্থ দপ্তরের কাছে পাঠাবে। কিন্তু দশ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই এসওপি এসে না পৌঁছানোয়, ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তর থেকে একটি নতুন মেমো (No. 1338(7)-F(P2)) জারি করে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন ডেডলাইন ১৩ এপ্রিল
অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের (Additional Chief Secretary) জারি করা এই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) এর মধ্যে স্কুল শিক্ষা দপ্তর সহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাদের নিজেদের এসওপি অর্থ দপ্তরের কাছে জমা দিতে হবে।
যেহেতু গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্ট নেই, তাই তাদের বকেয়া টাকা কীভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া নিরূপণের পদ্ধতি কী হবে, তা ওই এসওপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ও আশা
এদিকে বকেয়া ডিএ প্রদানের এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন'-সহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দ্রুত এসওপি প্রকাশ এবং এককালীন বকেয়া মেটানোর দাবিতে সরব হয়েছে। অর্থ দপ্তরের এই নতুন নির্দেশিকার পর, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বকেয়া ডিএ মেটানোর জট কাটবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পেনশনভোগী।
রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডিএ (DA) এবং শিক্ষা দপ্তরের লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ