কলকাতা, সংবাদ একলব্য: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা এবং বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন বুথ দখল বা যে কোনো ধরনের অশান্তি রুখতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটারের একটি কড়া সুরক্ষা বেষ্টনী বা 'লক্ষ্মণ রেখা' তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল এই কড়া বার্তা দিয়েছেন।
কী এই 'লক্ষ্মণ রেখা' এবং কীভাবে কাজ করবে?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকা সাদা চক দিয়ে চিহ্নিত করা থাকবে। এই গণ্ডির ভেতরে প্রবেশের আগে ভোটারদের কড়া চেকিংয়ের মুখে পড়তে হবে। বুথের বাইরের এই ব্যাসার্ধের মধ্যে দুটি বিশেষ চেকপয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং তাঁদের সহকারীরা উপস্থিত থাকবেন। ভোটার কার্ড ও সচিত্র পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর সমস্ত তথ্য সঠিক মিললে তবেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চূড়ান্ত অনুমতি মিলবে। মূলত ভুয়ো ভোট (Fake Voting) রুখতে এবং বুথের আশেপাশের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই এই অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি, অশান্তি হলেই সাসপেন্ড ওসি
এদিনের বৈঠকে পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে কড়া উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ১০০ মিটারের 'লক্ষ্মণ রেখা' লঙ্ঘিত হলে বা বুথ চত্বরে কোনো ধরনের গোলমাল, বোমাবাজি বা অশান্তি ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের (OC) ওপর বর্তাবে এবং তাঁকে সরাসরি সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।
পাশাপাশি, গত নির্বাচনে হিংসায় উসকানি দেওয়া অভিযুক্তদের কেন এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি, সেই প্রশ্নে জেলা প্রশাসনকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেন মনোজ কুমার আগরওয়াল। কোনো এলাকা থেকে বোমা বা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলে ওসি-দের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় কমিশন সরাসরি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটের লক্ষ্য
কমিশনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তারা 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে। সাধারণ ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ ভয়হীন পরিবেশে এবং নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করতেই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে কার্যত কড়া শাসনে বেঁধে ফেলল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোটের আগে কমিশনের এই কঠোর বার্তা রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি প্রশাসনকেও রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে।
রাজ্য রাজনীতি এবং বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ